এই বছরের দুর্গা পুজাই

0

 এই বছরের দুর্গা পুজাই

মিলন পুরকাইত 

"ওহ শাম কুছ আজীব থি, ইয়ে শাম ভি আজীব হ্যায়!
ওহ কাল ভি পাস পাস থি ওহ আজ ভি করিব হ্যায়!
ওহ শাম কুছ আজীব থি..!!"

গানটা শুনতে শুনতেই কফি কাফে শেষ চুমুকটা দিলো আলেখ্য। আজ সন্ধ্যেটা একটু অন‍্যরকম। হাল্কা বৃষ্টি। মাটির সোঁদা গন্ধ! তবুও হাওয়াতে উৎসবের মেজাজটা স্পষ্ট জানান দিচ্ছে। আসলে মহালয়া তো, তাই এই দিনটা প্রতিটা বাঙালির কাছেই খুব কাছের। স্মৃতিদের আগমন খুব তাড়াতাড়ি ঘটে এই সময়টাতে। তারওপর আজ আবার মৈনাক আর দীপ্ত কল করেছিল ওকে। বলেছিল এবছর পুজোতে না এলে সম্পর্কটা শেষ। 'সম্পর্কটা শেষ' কতো ছোট্ট একটা শব্দ, কিন্তু আজও যেন হাজার খানেক চড়ুই আলেখ্যর বুকের ভিতর থেকে উড়ে গেল। এই শব্দটাকে খুব ভয় পায় ও আজও। খুব! তারপর ফোন করেছিল শিবু কাকু। এই মানুষটা আলেখ্যর খুব প্রিয়। লম্বা সাদা দাড়ি, সর্বদা ঢোলা কুর্তা গায়ে চাপানো, আর ফরসা মুখে সবসময় লেগে থাকে একটা মন ভালো করা হাসি। সেই ছোট থেকে একরকম দেখে আসছে ও শিবু কাকুকে। মানুষটা ব‍্যাঙ্কার ছিলেন কিন্তু আলেখ্যর আকর্ষণের জায়গা ছিল ওই মানুষটার গল্প বলার ক্ষমতা, মানুষকে বোঝার ক্ষমতা, গল্পের বইএর কালেকশন, আর ওনার হাতের আঁকা। এতো সুন্দর একটা মানুষ আঁকতে পারে! ছোটো থেকেই মুগ্ধ হয়ে যেত আলেখ্য মানুষটাকে দেখেই। তাই বয়সে অনেক বড়ো হলেও শিবু কাকু ছিল আলেখ্যর বন্ধু! সেই মানুষটা ফোনে জানালো যে, তাদের পত্রিকার তরফ থেকে বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়েছে এবং আলেখ‍্যকে নাকি থাকতেই হবে, কোনো ভাবেই এবার ছাড়া হবে না তাকে। শিবু কাকু ঠিক এরকমই, সবটুকু জানে, তবুও না জানার ভান করে আবদারটা করে বসলো। এই মানুষটাকে কি না বলা যায়?? আসলে জীবনে কিছু মানুষ থেকে যায়, যাদের না করা যায় না! তাই ও ঠিক করলো এবার পুজোতে ও ফিরবে। শান্তিপুর। তার ছোট্ট শহরটাতে। এসব ভাবতে ভাবতেই আলেখ্যর মনে হলো, আচ্ছা শিবুকাকু কি এখন সপ্তপর্ণীদের বাড়ি থেকে ফিরে ওকে ফোন করলো? নাকি সপ্তপর্ণীদের বাড়ি থেকেই??

পুজোর সময় এমনিতেই খুব ধকল যায় সপ্তপর্ণীদের। এখন ওদের দোকানের বেশ কয়েকটা আউটলেট। ওই সামলায় পুরো বিষয়টা। সবকটা আউটলেটে সারাদিন ভিজিট করে সবে বাড়ি ফিরেছে ও, ওমনি ওর বাবা বলে বসলো,'পর্ণা এবছর বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে তুই কিন্তু একটা গান করবি! এটা আমার আবদার বলতে পারিস।'
সপ্তপর্ণী কি বলবে বুঝতে পারলোনা, ও সারাদিন এই দৌড়ঝাঁপ করে সবে ফিরলো আর এখন এরকম এক আবদার! কোনো মানে হয় এসবের? তারপর ওর মাথাটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। ও বোঝে বয়স বাড়লে বড়োরাই ছোট হয়ে যায়, তখন ওদের আবদারের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ও বাবার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো। এই বাবা-ই তো ছোটবেলা সব আবদার গুলো হাসিমুখে মেনে নিয়েছে! আর কেই বা সব আবদারের কথা শুনেছে ওর? না! আরও একজন ছিল যে তার সব আবদার গুলো মেটাতো হাসিমুখে। কিন্তু.... না! এখন আর এসব ভাবার সময় নেই। এগুলো নিয়ে আর কোনো কিচ্ছু ভাবতে চাইনা ও। মুখটা তেতো হয়ে আসছে ওর। চোখটা কি একটু ঝাপসা হলো! না ফ্রেশ হতে হবে এবার ওকে। 
ঠিক ওইসময়েই পর্ণার মা একটু গলা উঁচিয়েই বললেন,'হ‍্যাঁ বাবার আবদারে কোনো না নেই, যতো না আমার বেলায়! মা যে একটা আবদার করে যাচ্ছে, সেটাই উনি রাখবেন না, কতোদিন ধরে বলেছি বিয়েটা কর বিয়েটা কর! না উনি করবেন না! কেন বাপু এতো ছেলে তোকে পছন্দ করে, কাউকে তোর ভালো লাগেনা? এতোদিন ধরে একটা প্রেম করে কি ছোট এক ভুল বোঝাবুঝি হলো সম্পর্কটাকে শেষ করে দিলি! সে নাহয় দিলি,কিন্তু তারপর তো বহু দিন চলে গিয়েছে! এবার তো বিয়েটা কর, আমরা বেঁচে থাকতে থাকতে তোর একটা ব‍্যবস্থা তো করে দিয়ে যায়!'
মায়ের এই কথাগুলো শুনে মাথা ঝিমঝিম করছিল পর্ণার। বিরক্ত লাগছিল খুব। ও যে এতো বড়ো একটা ব‍্যবসা একা হাতে সামলাচ্ছে,সেটা মা বোঝেনা? ওর কি ব‍্যবস্থা করতে চাইছে মা! ও কোনো কথা না বলে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠতে গেল। আর তখনই বাবার ফোনে একটা কল এলো। ফোনটা ধরে বাবা স্পিকারে দিলো, ওপাশ থেকে গলাটা আসতেই পর্ণা বুঝলো শিবু কাকুর গলা। ও শুনলো শিবুকাকু বলছে, 'রক্তিম দা আলেখ্যর সঙ্গে কথা হয়েছে, ওকে বলেছি বহুদিন ফাঁকি দিয়েছো, এবছর আসতেই হবে! আলেখ্য রাজী হয়েছে!'
আলেখ্য আসছে! সপ্তপর্ণীর এবার মনে হলো ও সিঁড়ি থেকে পড়ে যাবে! চোখের সামনে ভেসে এলো ওই হাসিটুকু,যা সব মনখারাপ ভুলিয়ে দিতো পর্ণার!

'এই যে এবার একটু রাগটা কমান! আমি আপনার পাশে আছি তো নাকি? এতো রাগ কিসের তোমার পাজি ছেলে! দেবো এবার কানটা মুলে?'
হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল আলেখ্যর। কি স্বপ্ন দেখলো এটা! কার স্বপ্ন দেখলো! পাঁচটা বছর পরেও স্বপ্নগুলো এতোটা জীবন্ত হয় কি করে? এসব ভাবতে ভাবতেই দেখলো ওর মা কফি নিয়ে এসেছে! জড়িয়ে ধরলো ও মাকে। কালকে রাতেই জলপাইগুড়ি থেকে ফিরেছে ও। ওর সিকিউরিটিদের গেস্ট রুমে রেখে,ওদের সব ব‍্যবস্থা করে ও নিজের রুমে এসে শুয়ে পড়েছে। ক্লান্ত লাগছিল খুব ওর। মায়ের কাছে শুনলো বাবা আজ নিজে বাজারে গেছে। এই পাগলামীর কোনো মানে হয়! ও কি অতিথি নাকি, যে ও এসেছে বলে বাবা এই বয়সে নিজেই বাজারে গিয়েছে! কিন্তু ও বোঝে যে এটা ভালোবাসা, বাবা মায়ের কাছে ছেলেমেয়েরা যে সবসময়ই খুব ছোট!
এবার মা বললো, 'কিরে কোনো পাহাড়ি কন‍্যে পছন্দ হলো? বয়স তো হচ্ছে নাকি! কদিন পর তো চুলে পাক ধরবে, কোনো মেয়ে আর পাত্তা দেবেনা! কি করবি তখন? তোর বাবার বন্ধু স্বপন বাবু, ওনার ভাইজির কথা বলছিল তোর জন্য! মেয়েটাকে দেখেছি, যেমন দেখতে, তেমনই তার ব‍্যবহার! শিক্ষিত! এবছর নেট দিচ্ছে! আলাপ করবি একবার?' উত্তরে আলেখ্য হেসে বললো, 'মা,আজ কিন্তু লুচি আর সাদা আলুর তরকারি খাবো। আমি খেয়ে একটু মৈনাকদের বাড়িতে যাবো। আর ছোট্টুকে বলো বাইকটা একটু মুছে রাখতে, গাড়ি নেবোনা এইকদিন। বাইকটা নিয়েই বেরোবো।' 
ফ্রেশ হতে হতে ও শুধু ভাবলো, স্বপ্নগুলো কেন যে মানুষের মনে কাঠপিঁপড়ের মতো কাঁমড় দিয়ে যায়,কে জানে! আর ওর মা ভাবলো, এই ছেলের বিয়ে দেখার সাধ তার অপূর্ণই থাকবে।

মহালয়ার পর থেকেই যেন অন‍্যমনস্ক হয়ে আছে পর্ণা। ও এখন খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে, ও যে জায়গা থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত ভেবেছিল, সেই জায়গাতেই ও আজও বন্দী। নিজেকে নিজের চড় মারতে ইচ্ছে করলো ওর! ছি! এতো দিন পরেও! তারপরেও চোখটা যেন ভিজে উঠলো জলে। নিজের মনেই বলে উঠলো, 'পুজোটা ওই ছেলেটার জন‍্যেই এবার নষ্ট হচ্ছে ওর। কেন আসবে ও আবার? সব কিছুতেই দেখনদারি! গা জ্বলে যায়! বড়ো সরকারি দপ্তরের বাবু উনি এখন! আশেপাশে ইয়েস স‍্যার বলার লোকের অভাব নেই! এটাই তো চেয়েছিল ও! ভালোবাসার মূল্য বোঝে ও? অসভ্য! ছোটোলোক একটা! নিজের প্রতিপত্তি দেখাতে আসছে এখন!' তারপরেই আবার যেন মুখটা তেতো হয়ে গেল ওর! কি ভাবছে এসব ও! কার সম্পর্কে ভাবছে? ওর যখন কিচ্ছু ছিল না! যখন ও কলেজে, তখন থেকেই তো এসব মানুষগুলোর চোখের মণি ছিল ও। ভালোবাসাটা তখন থেকেই তো পেয়েছিল ওই ছেলেটা! তাহলে এখন ভালোবাসা পাবেনা কেন? নিজে এখন আলেখ্যকে ভালোবাসেনা বলে কি কেউই ওকে ভালোবাসবে না? কিন্তু ও যে সবসময়ই ভালোবাসার মতোই মানুষ ছিল! আচ্ছা ও নিজে কি সত‍্যিই আর আলেখ‍্যকে ভালোবাসেনা??

পুজোতে খুব বেশি হুটোপাটা কোনোদিনই পছন্দ নয় আলেখ্যর। নিজেকে ও সবসময়ই একটা ছোট্ট কোকুনের মধ্যেই রাখতে ভালোবাসে। ও এসেই গল্পের আসর জমিয়েছে বিজয় দার বাড়িতে। বিজয়দা রেলে চাকরি করে, চাকরি পেয়েই বছর না পেরতেই বিয়ে, আর বিয়ের বছর পেরতেই আলেখ্য কাকা হওয়ার সুসংবাদটা পেয়ে গিয়েছিল! মানুষটা আলেখ্যর নিজের দাদার মতোই! সবসময় সব বিষয়ে ওর পাশে থেকেছে। যেমন খেতে ভালোবাসে,তেমনই খাওয়াতে। তাই ওর বাড়িতে আসর জমিয়ে ক্লান্তি আসেনা। ওখানেই আড্ডায় যোগ দিয়েছে মৈনাক, দীপ্ত। ওরাও এখনও বিয়ে থাওয়া করেনি। মৈনাক বোটানির প্রফেসর, আর দীপ্তর বিরাট এক স্টুডিও আছে। সোহান আসতে পারেনি,ও এই কদিন গেছে শ্বশুর বাড়ি। দশমীতে ফিরবে শান্তিপুর। ফোনে জানিয়েছে শিবুকাকুর বাড়ির বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে দেখা হবে। এখন বিজয় দা, মৈনাক, দীপ্ত, সোহান সবাই ওই বিজয়া সম্মেলনের আয়োজক! আলেখ্য নিজের মনেই হেসে ওঠে মাঝেমধ্যে, যে ছেলেটা এই পত্রিকা, সম্মেলন, বিজ্ঞান মঞ্চ করেই কাটিয়ে দিল, সে আজ এসব থেকেই কতো দূরে! একটা ঘটনা মানুষের জীবন এতোটা বদলে দিতে পারে? এতোটা!এইসব পুরোনো নতুন গল্প-আড্ডাতেই কেটে গেল ওদের পুজোর চারটে দিন। এর মধ্যে আলেখ্য মৈনাককে নিয়ে শুধু দেখা করে এসেছে ওর পুরোনো স‍্যারেদের সঙ্গে আর সবাই মিলে অষ্টমীতে দেখে এসেছে একটা সিনেমা। এর মধ্যেই চলে এলো ওদের খুব প্রিয় শিবু কাকুর বাড়ির বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠান! আবার পাঁচ বছর পর আলেখ্যর সঙ্গে দেখা হবে সবার! পাঁচটা বছর।

আলেখ্য সিগারেটটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গঙ্গার ধারে। সঙ্গে মৈনাক-দীপ্ত। একাদশীর দিন সকাল বেলা। আলেখ্য ভোরে ওদের দুজনকে মেসেজ করে জানিয়েছে আজ সন্ধ্যের অনুষ্ঠানে ও যাচ্ছে না। ওরা দুজন যেন শিবুকাকুকে একটু বুঝিয়ে বলে! এই মেসেজ দেখেই ওরা দুজন সাত সকালে গিয়েছে আলেখ্যর বাড়ি। তারপরেই ওকে পাকরাও করে এনেছে গঙ্গার ধারে! দীপ্ত চেঁচিয়ে বললো,'চিরকাল শালা তারকাটা থেকে গেলি, তীরে এসে তরী ডোবানোটা তোর স্বভাব থেকে গেল মাইরি! আর ঠিক এই স্বভাবের জন‍্যেই তোর এই হাল!' মৈনাক শান্ত করলো দীপ্তকে। আলেখ্য বুঝলো দীপ্তর 'এই হাল' শব্দের অর্থ! তবুও নির্বিকার মুখে ও সিগারেট টানতে থাকলো।
মৈনাক বললো,'কি হলো তোর হঠাৎ আলেখ্য? শিবুকাকু তোকে কতো ভালোবাসে জানিস তুই! তুই কেন আমরা সবাই জানি! তারপর আসবি বলেও এই শেষ মুহূর্তে যদি না যাস তবে ওই মানুষটা কতোটা কষ্ট পাবে বল তো?'
আলেখ্য এবার মুখ খুললো! ও বললো,'দেখ সবটাই বুঝতে পারছি। কিন্তু তোরা আমার দিকটাও বোঝ! আমার উপস্থিতি ওখানে কিছু মানুষ ভালোভাবে হয়তো নেবেনা, যদি তারা উপস্থিত থাকে তো! সেখানে তাদের বিব্রত করাটা আমার ঠিক হবে না। আর এতোদিন পর আমি আবার কোনোরকম পুরোনো জটে জড়িয়ে যেতে চাইনা। সবার কষ্টের কথা আমি ভেবে কি করবো, আমার নিজের দিকটা আমি কবে ভাববো?'
মৈনাকের চোয়াল শক্ত! শান্ত মুখটা যেন ওর লাল হয়ে উঠলো। ও বললো,'আলেখ্য মুখার্জি এতোটা স্বার্থপর হয়ে গেছে এটা আমাদের জানা ছিল না। আর তুই বারবার তাদের তাদের বলে বহুবচনে কথা বলছিস কেন....??বলনা যে একজন বিব্রত হবে! আর বাকি মানুষগুলো যে এতোটা আশা করে আছে?তাদের কথাটা ভাবলিনা একবারো? আর সবশেষে যদি কেউ একজন বিব্রত হয়,তাহলে তোর কি?'
মৈনাকের মুখ থেকে কথাটা ছিনিয়ে নিয়ে পাশ থেকে বিজয়দা বলে উঠলো,'আর বিব্রত হলেই বা কি....আর হবেই বা কেন!! পাঁচটা বছর, একদিন দুদিন নয়!! গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে!! শোন আলেখ্য তুইও আর সপ্তপর্ণীকে ভালোবাসিস না, আর পর্ণাও তোকে ভালোবাসেনা। ভালোবাসলে অন্তত যোগাযোগটা রাখতিস দুজনেই! তো সেখানে সপ্তপর্ণী আসুক কি সপ্তসিন্ধু কেউই বিব্রত হবে না!'
আলেখ্য বিজয়দার কথা শুনে চমকে উঠলো যেন! এই মক্কেল আবার কোথা থেকে উদয় হলো! বিস্ময় চেপে রেখে মুখে ও বললো, 'বিজয়দা তুমি এখানে?'
বিজয় হেসে বললো, 'দীপ্ত মেসেজ করে বলেছিল আলেখ্য মালটার তার নাকি আবার কেটে গেছে,রেলের লোকই নাকি ওই হাই ভোল্টেজের তার ঠিক করতে পারবে! তাই চলে এলাম! আর শোন এসব ভুলভাল চিন্তা বাদ দে, তুই আজ যাবি। আমরা আজ তোর কোনো কথা শুনবো না!'
আলেখ্য শুধু চোখ বন্ধ করে ভাবলো, পর্ণা নাহয় ওকে আর ভালোবাসেনা,কিন্তু ঔ কি....!!

অভিমানের পারদ ঠিক কতোটা গাঢ় হয়?? অভিযোগের দূরত্ব ঠিক কতো হাজার মাইল হয়?? সম্পর্কের সুতোটা যখন কেটে যায়, চেনা মানুষটা ঠিক কতো জন্মের অচেনা মনে হয়! এইসব ভাবতে ভাবতেই আলেখ্য এসে পড়লো শিবুকাকুর বাড়ি। সঙ্গে ছিল মৈনাক। মৈনাকরা আয়োজক হলেও শিবুকাকু বলেছিল, 'তোমার এবছরের দায়িত্ব তোমার ওই পাগল বন্ধুটাকে ধরে বেঁধে নিয়ে আসা! কখন যে কোন ছুতো দিয়ে ও পালাবে ধরে ওঠা যাবে না! বাকি এই দিকটা আমরা সামলে নেবো!' 
আলেখ্য যখন এসে পৌঁছালো,তখন অনুষ্ঠান কক্ষ ভরে উঠেছে। সকলেই প্রায় আলেখ্যর চেনা। সবাই উঠে এসে আলেখ্যকে পুরোনো দিনের মতোই মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, গাল টিপে দিচ্ছে। এখনও সবাই ওকে এতো ভালোবাসে! এর মধ্যেই ওর চোখ গেল ঘরের একটা কোনের দিকে, যেখানে দুটো চোখ মাটির দিকে চেয়ে আছে! কচি কলাপাতা রঙের শাড়িতে, আরও যেন সুন্দর লাগছে মানুষটাকে! কিন্তু সে এসেছে বলে যে সবার এতোটা আনন্দ, সেখানে ওই একটা মানুষের যেন কোনোই হেলদোল নেই! তখনই আলেখ্য নিজের মত পরিবর্তন করে নিজের মনেই বলে উঠলো,'না সবাই ঠিক এখন আর ওকে আগের মতো ভালোবাসে না, কারণ সবার মধ্যে একজন ব‍্যাতিক্রম!'

দশমীর দিন দীপ্ত আর মৈনাক গিয়েছিল সপ্তপর্ণীর বাড়ি। সোনাদিও এসেছে পুজোতে ওদের বাড়িতে। সোনাদি পর্ণার মাসতুতো দিদি। আসলে এই বিজয়া সম্মেলনের অনুষ্ঠানটা মুলত এই রক্তিম বাবুর বাড়ি আর শিবুকাকুর বাড়িতেই হয়! এবছর এখানে, তো ওবছরে ওখানে! সেইজন্য রক্তিম বাবুর আত্মীয় স্বজন মোটামুটি এই অনুষ্ঠানের বহুদিনের অংশ! সোনাদিও ঠিক এরকমই। সেদিন দীপ্ত এসে পর্ণাকে সবার সামনেই বলেছিল,'কাল অনুষ্ঠানে তারকাটাটা আসছে পর্ণা! দেখিস মালটাকে দেখে তোর তার না আবার কেটে যায়!' দীপ্ত দার পেছনে লাগা স্বভাব, জানে পর্ণা। কিন্তু আজ যেন একটু রেগে গেল ও। বললো,'কে আসবে না আসবে সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই দীপ্তদা! আর ওসব ফালতু জিনিস নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় আমার একটুও নেই!' সোনাদি কিছু বুঝতে না পেরে বললো,'আরে আরে হয়েছেটা কি? কে তারকাটা? কে আসছে কাল?' মৈনাক হেসে বললো,'আরে সোনাদি আলেখ্য এসেছে এখানে! ও কালকের অনুষ্ঠানে থাকবে!' সোনাদি যেন চমকে গেল কিছুটা। তারপর হাসিমুখে পর্ণার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, 'অনেকদিন হলো পর্ণা! এবার রাগটা অন্তত কমা!' দীপ্ত মাঝখান থেকে হুশ করে বললো,'হ‍্যাঁ হ‍্যাঁ রাগটা কমা, তারকাটাটার বিয়ে সামনে! খাওয়াটা কোনোভাবেই মিস করা যাবেনা কিন্তু পর্ণা!' মৈনাক কটমট করে তাকালো দীপ্তর দিকে। সোনাদি নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো মৈনাককে,'বাহ এতো ভালো কথা! কতোদিনই বা অপেক্ষা করে থাকা যায়? তা কার সাথে বিয়ে ওর?'
মৈনাক তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতটা নাড়িয়ে বললো,'বাদ দাও তো দীপ্তর কথা! সবসময় ফালতু বকাটা স্বভাব ওর! আরে ওই খিটখিটে স্বপন বুড়োর ছোট ভাই সুদীপ বাবু আছেন না! ওনার মেয়ে তন্দ্রার জন্য স্বপন বুড়ো আলেখ্যর বাবার সঙ্গে কথা বলেছিল! আলেখ্যর বিয়েতে মত নেই!' 
সোনাদি বললো,'ওমা তন্দ্রাকে আমি চিনি তো! ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট! আর ওরকম সুন্দর দেখতে মেয়েটাকে আলেখ্য না করে দিলো! দীপ্ত তুই ঠিকই বলিস, ও সত্যিই তারকাটা!' সবাই হোহো করে হাসছিল, কিন্তু একজন ওই হাসির মধ্যে বিছানায় বসে চাদর খিমছে ধরেছিল! ওরা কি বলছে, আলেখ্যর বিয়ে! জঘন্য ছেলেটার বিয়ে! আর ওর কথা এখনও ভাবে সপ্তপর্ণী! ছি! কিন্তু আলেখ্য না করে দিলো কেন বিয়েতে! হয়তো বাবু এখন অন‍্য কোনো জায়গাতে ছিপ ফেলে বসে আছেন! নাহলে তন্দ্রার মতো মেয়েকে না করার কোনো কারণই থাকতে পারে না! নাকি এখনও..!! না আর কিচ্ছু ভাবতে ভালো লাগছে না ওর!! কেনই বা ভাবছে ও আলেখ্যর কথা! যা ইচ্ছে হোক ওর!

শিবুকাকু ঘোষণা করলেন, আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি রক্তিম বাবুকে! দীপ্ত সমর্থন করে হেসে ফেললো! আসলে ছোটো থেকেই ওরা দেখে আসছে এই ঘটনা! যখন পর্ণাদের বাড়ি অনুষ্ঠান হয়,তখন শিবুকাকু সভাপতিত্ব করে, আর শিবুকাকুর বাড়িতে হলে রক্তিমবাবু সভাপতিত্ব করেন। সপ্তপর্ণী দেখলো দীপ্তর হাসি দেখে আলেখ্যর ঠোঁটের কোণেও একটু হাসি খেলে গেল! সেই হাসি! মাথার চুলে হাত বোলানোর সেই ভঙ্গি! সেই হাতা গোটানো পাঞ্জাবী, সঙ্গে জিনস! আচ্ছা আজও কি ও ওই আফটার সেভ লোশনটাই মেখেছে? হঠাৎ ভাবনাতে ভেসে যাচ্ছিল ও! কাঠপিঁপড়েটা সত‍্যিই ওর মনকে কামড়ে আজ শেষ করে দেবে ভাবলো পর্ণা! শিবুকাকু আরও বললো, আলেখ‍্যকে আমরা পাঁচটা বছর পরে আমাদের মধ্যে পেলাম! ওর ব‍্যস্ত সময় থেকে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য ওর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ! আলেখ্যর মনে হলো, এসব কেন বলছে শিবুকাকু! সে তো ওদেরই একজন! এখানের সবাই ওর খুব প্রিয় মানুষ! তাহলে এসব কেন বলছে! ভেবেই ওর চোখ পড়লো পর্ণার দিকে,পর্ণার দুটো চোখ ওর দিকেই চেয়ে ছিল এতোক্ষন! বিরক্তিতে! শিবুকাকুর কথাগুলো শুনেই কি এতো বিরক্তি পর্ণার চোখে! যাক আর ভাবতে ভালো লাগছে না ওর এসব। এই একটা দিন ও সকলের সাথে আনন্দ করে ফিরে যাবে জলপাইগুড়ি। একের পর এক কবিতা, গান,নাচ চলতে থাকলো! আলেখ্য ওর নিজের লেখা একটা ছোট্ট কবিতা পাঠ করলো! তারপর সপ্তপর্ণীর গান! সপ্তপর্ণী গান শুরু করতেই সবাই যে আলেখ্যর দিকেই তাকিয়ে আছে! ওর প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছে আজ পর্ণা!
"কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া/
তোমার চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া/
চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি/
গোপনে তোমারে, সখা, কত ভালোবাসি।"
আলেখ্যর মনে হলো পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে এবার! ঘরের ভেতর সবাই চোখ চাওয়া চাওয়ি করছে। দীপ্ত হালকা করে সোনাদিকে বললো,'আলেখ্যর তার কিন্তু কেটে গিয়েছে আবার!' মৈনাক ওকে চোখ পাকিয়ে চুপ করালো! সোহান পর্ণার গানের সঙ্গে তবলা বাজাচ্ছিল! গান শেষে পর্ণা চোখ বুজলো! আলেখ্য স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ওর ফরসা গোলাপি গালদুটো বেয়ে নেমে আসছে জল! পর্ণা কাঁদছে! না এ দেখা সম্ভব নয় আলেখ্যর পক্ষে! ও চলে এসেছে ছাদে। এক কোণে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে! সঙ্গে আছে মৈনাক, দীপ্ত, সোহান! কেউ কোনো কথা বলছে না! আসলে পরিস্থিতি খুব জটিল হয়ে গেছে আজ! হঠাৎ বিজয়দা এলো ওপরে সঙ্গে সোনাদি! আলেখ্য সোনাদিকে দেখে বললো,'তুমি আবার ওপরে এলে কেন! তুমি দিদি প্লিজ নিচে যাও! মেয়েটাকে সামলাও!' হঠাৎ সিঁড়ি থেকে একটা আওয়াজে চমকে উঠলো ওরা সবাই! 'সপ্তপর্ণী গাঙ্গুলী নিজেই নিজেকে সামলাতে পারে মিস্টার আলেখ্য মুখার্জি! তাকে নিয়ে কারোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো দরকার নেই!' 
আলেখ্য সিগারেটটা ফেলে মাথাটা অন‍্য দিকে ঘোরালো একটু! মুখটা গম্ভীর! 
দীপ্ত পরিস্থিতি হালকা করার জন্য বললো,'কিরে ঝগড়ুটে!তুই এখন ওপরে এসেছিস পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার জন্য?' 
সপ্তপর্ণী যেন নিজের মধ্যে নেই! ওর শান্ত স্বভাব যেন হারিয়ে যাচ্ছে! বুঝতে পারছে ও! দীপ্তকে ও চিৎকার করে বললো,'হ‍্যাঁ, এসেছি ঝগড়া করতে! এসেছি! বেশ করেছি এসেছি! আমি আমার নিজের মানুষের সাথে ঝগড়া করতে এসেছি,তাতে তোদের কিই! আবার কার্সি দেখিয়ে সিগারেট ফেলে দেওয়া হচ্ছে! চিরকালের ন‍্যাকা,জঘন্য লোক একটা!' কথাটা শেষ করার পরেই যেন হুশ ফিরলো পর্ণার! কি বলে ফেললো ও! কে ওর নিজের মানুষ! ওর নিজের মানুষটাকে তো ছোট্ট কথাকাটাকাটির জন্য,ছোট্ট একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য দূরে সরিয়ে দিয়েছিল ও! সে কিকরে আজ ওর কাছের মানুষ থাকবে?' ও নিচে নেমে যেতে চাইছিল দৌড়ে। সোনাদি হাতটা চেপে ধরলো ওর। আর বললো,'আজ অন্তত আর পালিয়ে যাসনা পর্ণা! এভাবে আর কতোদিন নিজের থেকে নিজে পালিয়ে বাঁচবি তুই!'
আলেখ্য এতোক্ষণে মুখ খুললো,'মৈনাক আমি বেরোলাম! আমার কিছু কাজ আছে,কাল বেরিয়ে যাবো, তার আগে কাজ গুলো মিটিয়ে নেওয়া দরকার!' 
মৈনাকের মধ্যে যেন দীপ্তর আত্মা ভর করেছে তখন! মৈনাক বললো,'শোন তারকাটা, অনেক ন‍্যাকামি আমরা পাঁচ বছর ধরে সহ‍্য করেছি! বিয়ে করবোনা! ছুঁতোয় নাতায় পর্ণার খোঁজ নেওয়া! পর্ণার চোখের জল আজও সহ‍্য না করা! আমরা কিচ্ছু বুঝিনা ভেবেছো! বাঁদর একটা! এতো ইগো কিসের তোর! হ‍্যাঁ আজও ওকে ভালোবাসিস, এই সামান্য কথাটা স্বীকার করতে এতোটা ফাটছে কেন তোর? শিবুকাকু কি এমনি এমনি চোদ্দো বার করে তোকে ফোন করেছে? তোর হিটলার বাপ, পর্ণার বাবা, শিবুকাকু, আমরা সবাই প্ল‍্যান করেছিলাম তোকে আনার! তোমরা বাঁদরামি করবে! আর কাকু কাকিমারা কষ্ট পাবে! আমরা কষ্ট পাবো তোদের ওই ঝুলে থাকা মুখগুলো দেখে, এগুলো আর চলতে পারেনা! আজ এক পাও যদি নড়েছিস তো আজ মার দিয়ে মারাকানাতে পাঠিয়ে দেবো তোকে!'
পাশ থেকে বিজয়দা একটু তুতলিয়ে বললো,'দেখ তো ওর জগাই মাধাই দুই পেল্লাই সিকিউরিটি গার্ড গুলো আজ এসেছে নাকি! শালা ওই দুটোকে নিয়েই যা ভয়! পর্ণা চিন্তা করিস না,ওদুটো না এলে এটাকে মেরে মারাকানা কেন মার্সেও পাঠিয়ে দিতে পারি!'
এতোক্ষণে হাসলো আলেখ্য! পর্ণা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো, তোমরা একটু নিচে যাও! আমার কিছু কথা আছে ওর সঙ্গে! সবাই নিচে চলে গেল।
পর্ণা আস্তে আস্তে এগিয়ে এলো আলেখ্যর দিকে! পাঞ্জাবীর কলারটা মুঠোতে চেপে ধরে জিজ্ঞেস করলো, 'অন‍্য কাউকে ভালোবাসো?' আলেখ্য হেসে ঘাড় নেড়েছিল শুধু! পর্ণা আরও বললো,'আমি বলেছিলাম সম্পর্ক শেষ! তার মানেই শেষ? অভিমান ভাঙানোর কোনো দায় নেই তোমার? এতো ইগো? এতোটা আলেখ্য!'
আলেখ্য চুপ করে চেয়ে আছে পর্ণার দিকে! ওর সপ্তপর্ণীর দিকে। তারপর বললো, 'এতোদিন পরেও ঝগড়া করবে?'
পর্ণার ঠোঁটটা মিশে গেল আলেখ্যর ঠোঁটে! প্রজাপতিগুলো আবার ডানা মেলে উড়ে যেতে চাইছে দূরে! 
তারপর পর্ণা আলেখ্যকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে বললো,'জঘন্য মানুষ একটা!হতচ্ছাড়া!তারকাটা!'
ওরা যখন নিচে নামছে, তখন নিচে সবাই যেন আনন্দে মশগুল! ওদের আজ একটু লজ্জায় করছে! শিবুকাকু এগিয়ে এসে ১০১ টাকা ওদের হাতে দিয়ে বললো,'আজকের জন্য এই আশীর্বাদ! বাকিটা আশীর্বাদের দিনের জন্য তোলা থাকলো!' রক্তিমবাবু ফোনে কার সাথে কথা বলছে! শুনে মনে হলো আলেখ্যর বাবার সঙ্গে! পর্ণার মা হাসতে হাসতে সবাইকে বলছে,'যাক মরার আগে একমাত্র মেয়ের বিয়েটা দেখে যেতে পারবো!' আর দীপ্ত একটু নেচে নিলো,তারপর মৈনাকের দিকে তাকিয়ে বললো,'যাক একটা বড়ো দাঁও মারা গেল বুঝলি মৈনু! দুটো বাড়ির ওয়েডিং-প্রিওয়েডিং সব আমার! টাকা আর টাকা!'
আর তখনই আলেখ্য আর সপ্তপর্ণী একসঙ্গে বলে উঠলো,'না না এরকম তো কথা ছিল না! আমাদের বিয়েতে তো তুই পুরো ফ্রিতে কাজটা করে দিবি বলেছিলি! এখন আবার টাকার কথা আসছে কোথা থেকে?'
দীপ্ত জিভ কেটে মাথায় হাত দিয়ে চোখগুলো গোল্লা পাকিয়ে বললো,'যা শালা তোদের মনে আছে এসব এখনও? তারমানে আমার হাতে পুরো কাঁচকলা?'
সোহান পাশ থেকে বললো,'হ‍্যাঁ আমাদের সব কিছু মনে আছে! তুই আপাতত ওই কাঁচকলা নিয়েই খুশী থাক!'

সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো ওদের ছেলেমানুষী দেখে! এভাবেই ছেলেমানুষীগুলোর মধ্যেই বেঁচে থাক ভালোবাসা,আর ভালোবাসার মানুষেরা।

কোথা থেকে যেন আবার একটা গান ভেসে আসছে!

"ওহ শাম কুছ আজীব থি, ইয়ে শাম ভি আজীব হ্যায়!
ওহ কাল ভি পাস থি ওহ আজ ভি করিব হ্যায়!
ওহ শাম কুছ আজীব থি..!!"

✍️ মিলন পুরকাইত 
এই বছরের দুর্গা পুজাই


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)