মিলন পুরকাইত -এর লেখা গল্প প্রেমিকা

0
প্রেমিকা।
মিলন পুরকাইত। 
মিলন পুরকাইত -এর লেখা গল্প প্রেমিকা
সংগৃহীত ছবি ও এডিটং দীপিকা

📌লেখক নোটিশ 
প্রিয় পাঠক গল্পটির সম্পূর্ণ ভাবনা এবং বাস্তবে সঙ্গে কোন মিল নেই। হয়তো স্থান কাল জায়গায় একই হতে পারে কিন্তু গল্পের ঘটনাটা সম্পূর্ণ ভাবনা।🙏🏻

.......... 

প্রথম পর্ব 

বেলুড় স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাটা রাখা মাত্রই
আমার সেলফোনের রিংটোনটা বেজে উঠলো।আমি সচরাচর রিংটোনে কোনো সিনেমার গান সেট করিনা।এটা এই মাস খানেক হয়েছে।তাও শুধুমাত্র ওই বিশেষ মানুষটার ফোন নম্বরের সাথে।স্ক্রিনে ওর নামটা ভেসে ওঠা মাত্র আমি হাসি মুখে রিসিভ করতেই ফোনের ওপ্রান্ত থেকে কাছের মানুষটার কন্ঠটা ভেসে উঠলো-

-কোথায় তুমি?
-আমি এই যে সদ্য নামলাম।
-আমি বালী স্টেশন পেরোচ্ছি।তুমি চার নম্বরে অপেক্ষা করবে কিন্তু।
-ওকে ম্যাডাম।

আমি ফোনটা রেখে দিয়ে ব্যাগ থেকে জলের বোতলটা বের
করে কয়েকঘোট জল খেয়ে নিজেকে একটু শান্ত করবার
চেষ্টা করলাম।যত আমাদের দেখা হওয়ার মুহুর্ত এগিয়ে আসছে ততই যেন আমার বুকের ধুকপুকানি আরও বেড়েই
চলেছে।একমাত্র যাদের সাথে এমনটা ঘটেছে তারাই এই
অনুভূতিটুকু উপলব্ধি করতে পারবে।আর কেউ না।পরের
কয়েকটা মিনিট যে আমার কী অস্থিরতার মধ্যে কেটেছিলো
সে আমিই জানি আর আমার ঈশ্বর জানে।চন্দনপুর থেকে
আসা লোকালটা প্ল্যাটফর্মে আসার আগে পর্যন্ত এক চরম
অস্থিরতা কাজ করছিলো আমার মধ্যে।আমি বারবার করে
শুধু দূরের ওই লাইনটার দিকে চেয়েছিলাম কখন ট্রেনের
মুখটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

ট্রেন এসে থামলো।আমি হণ্যে হয়ে ট্রেনের ভেতর থেকে নেমে আসা প্যাসেঞ্জারগুলোর মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে
খুঁজতে লাগলাম আমার মানুষটাকে।অবশেষ যখন তাকে
দেখলাম,সত্যি বলছি হৃৎপিন্ডের মধ্যে একটা মিনি স্ট্রোক
যেন হলো সেই মুহুর্তে এমনটাই অনুভব করেছিলাম।ক্রমশ
সে দূর থেকে একটু একটু করে আমার সামনে এলো।আর
যখন সে একেবারে আমার সমুখে তখন যে আর ওর কাজল কাটা চোখগুলোর দিকে সাহস করে তাকিয়ে উঠতে
পারছিলাম না।বারবার লজ্জায় চোখের পাতা এলোমেলো
হয়ে যাচ্ছিলো আমার।হাতের আঙুলগুলো থরথর করে কাঁপ দিয়ে জানান দিচ্ছিলো আমি উত্তেজনায় খেই হারিয়ে
বসে আছি।

ওর হাসিখানা বরাবরই খুব মিষ্টি।বিশ্বাস করুন।আপনিও যদি ওর হাসির দিকে ভুল করে একবার তাকিয়ে ফেলেন
আপনিও ওর হাসিটার প্রেমে পড়ে যাবেন।দুজন দুজনের
দিকে খানিক্ষন আলগোছে তাকানোর পর কেউই কাউকে
কিছু না বলে পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলাম।আমি বেলুড়
এর খুব একটা জায়গা চিনিনা।কোথায় অটো স্ট্যান্ড।কিম্বা
কোথায় গেলে দুজনে একটু বসে টাইম স্পেন্ড করা যাবে
কোনোকিছুই না।কিন্তু ওর এ জায়গা মুখস্ত।তাই ও আমায়
প্রথম বললো-

-সামনেই টোটো পেয়ে যাবো চলে এসো।
আমি তখন খুব নরম সুরে জানতে চাইলাম-
-কোথায় যাবো আমরা?
-রাঙ্গোলি।

দ্বিতীয় পর্ব

একটা টোটো দেখে ও উঠে বসলো।আর আমি ওর পাশে
বসতে গিয়েও একটু সংকোচবোধ হতে আমার মধ্যে ওর
উলটো দিকের সীটটায় বসলাম।আমাকে উলটো দিকের
সীটটায় বসতে দেখে ও সঙ্গে সঙ্গে আমায় বললো-

-কী হলো,ওদিকে বসছো কেন।আমার পাশে বসো।

উঠে গেলাম আমি ওর পাশের সীটে।ভাগ্যিস উঠেছিলাম সঙ্গে সঙ্গে নয়তো অন্য একজন ছেলে এসে বসে পড়তো।
আর তখন আমার ওর বকুনি খেতে হত।ও শাসন করতে
বড় ভালোবাসে।আর আমি শাসন পেতে।এমনটা আমাদের
মধ্যে প্রায়ই হয় যে ওর শাসনের কাছে আমি হার মেনে যাই।
টোটোটা যদিও রাঙ্গোলি পর্যন্ত পুরোটা গেলোনা।বেলুড় মঠ
এর ঠিক আগেটায় আমাদের নামিয়ে দিলো।মঠের প্রধান দরজা বারোটায় বন্ধ হয়ে যায়।তাই দরজার বাইরে থেকেই
মনে মনে একবার পরমহংসদেবকে স্মরণ করে জানালাম-

-দিনটা যেন মনে রাখার মত হয়।

মঠের দরজার ডান বাম দিক দিয়ে আমরা দুজনে এগিয়ে
গেলাম।আর পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে এটা অনুভব করলাম
যে আশেপাশের কয়েকজন ওকে দেখছে।যতই হোক আমি
ও তো পুরুষমানুষ।তাই আর একজন পুরুষের এই স্বভাব
দোষটার সাথে আমি বিশেষ ভাবে পরিচিত।তাও আমার না
মনে মনে খুব রাগ হচ্ছিলো ওদের অমন চাহনি দেখে।যাই
হোক,মানুষটা তো আমার।তাহলে অন্যরা কেন দেখবে?

ও সেটা বুঝতে পেরেছিলো।আর পারামাত্রই হেসে বললো-
-কী হলো,মনে মনে রাগ হচ্ছে বুঝি?
-হবেনা।আমার মানুষটার দিকে তাকাবে কেন?
-এই তুমি এমন হিংসুটে কেন গা?কোথায় তোমার বউ এত
সেজে গুজে এসেছে।সবাই দেখছে,খুশি হবে।তা না..

আমি জানি ও আমার সাথে ইয়ার্কি করছে।আমাকে একটু
রাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু ওর ইয়ার্কির সুর বুঝে
নিয়ে ওকে আমিও জবাব দিলাম-
-তুমি কী অন্য সবার দেখবার জন্য এমন চোখে কাজল দিয়ে,এমন পরিপাটি করে চুরিদার পরে,চুলটা কাঁধের ওপর খুলে এসেছো?

-হ্যাঁ,,তা নয়তো কী,তোমাকে দেখাতে আমার বয়েই গেছে।
-বেশ।তাহলে সবাই দেখুক না হয়।আমি চোখে কালো চশমাটা পরে নিই।

বলে আমি একটু রাগ দেখিয়ে চোখে কালো চশমাটা সবে
চোখে দিয়েছি কী ও আমার চোখের ওপর থেকে ওটা টেনে
নিয়ে নিজের চোখে পরে নেওয়া মাত্র আমি বললাম-
-দাও দাও..এই আজকেই নিয়েছি এটা নতুন।
-তো কি,এটা এখন আমার।আর আমার চোখের তলায় এই
রোদ্দুরে কালি পড়ে গেলে কী তোমার ভালো লাগবে শুনি।

তৃতীয় পর্ব

অগত্যা।এরপর আর কী বলার থাকতে পারে।আগের মতই
পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলাম।কিছুটা রাস্তা হাঁটবার পর আমার তখন আর যেন পা চলছেনা।মনে হচ্ছে রাস্তাতেই বসে পড়ি।ও আমায় আর পাঁচ মিনিট আর পাঁচ মিনিট করে
ততক্ষনে কুড়ি মিনিট হাঁটিয়ে নিয়েছে অলরেডি।ওকে সেটা
জানাতে যে-

-পাঁচ মিনিট পাঁচ মিনিট করে আর কত হাঁটাবে আমায় বলোত?

ওর একটু ফ্লিম আর্টিস্টদের মত নাক মুখের ভঙ্গিমা করে
কথা বলার অভ্যেস আছে।তাই ও সেভাবেই একটু কায়দা করে বললো-
-এই তো পুজোয় কেদারনাথ যাবে বলছিলে।তাহলে ওখানে
কীকরে হেঁটে উঠতে শুনি।
-ওখানে আমার ঈশ্বর আমায় ঠিক মনে বল জুগিয়ে দিত।
-এখানে তো প্রেমিকা আছে পাশে।তাহলে প্রেমিকার বুঝি
এতটাও জোর নেই?

এই কথাটা শোনবার পর না মনে সত্যি একটা জোর এসে গেলো।ওই বলে না।প্রেমের জোর।অবশেষে পা চালিয়ে আরও মিনিট পাঁচেক পর আমরা রাঙ্গোলির সামনে এসে
হাজির হলাম।আমি তো রাঙ্গোলি দেখেই থ।জীবনে কোনো
দিন এত বড় মলে আসিনি আগে।ও আমায় বললো-

-চলো,ওপরে গিয়ে বসবো।ওখানে একটা ভালো বসে কথা
বলার জায়গা আছে।

আমি ওর কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ওকে বললাম-
-দেখ,আমার পকেটে না এখানে বসার মত এত টাকা নেই।
-আরে চলোই না।বেশি খরচ করাবোনা তোমার।ওই একটু
মোমো খাবো।আর কয়েকটা কুর্তি নেবো।

আমি ওর কথাটা শুনে ওর দিকে জোর হাত করে নমস্কার
করে বললাম-
-আমায় ছেড়ে দাও..আমি এলাম।
ও আমার হাতটা ধরে নিয়ে টেনে বললো-
-আরে চলোতো,ইয়ার্কিও বোঝেনা।সাধে বলি হাঁদারাম।অত
চিন্তা তোমায় করতে হবে না।

রাঙ্গোলির তৃতীয় তলায় ওই ফুড কোর্টের মত একটা জায়গা আছে।ওখানে বড় একটা স্পেস রয়েছে।যার সামনে
টেবিল চেয়ার পাতা আছে।বসে গল্প করা আর খাওয়ার জন্য।একটা ফাঁকা টেবিল চেয়ারে দুজনে বসলাম।বসেই ও
বললো-

-একটু জল খাবো আনবে।

আমি জল আনতে গিয়ে জল আর পেলাম না।ও কপালে
হাত দিয়ে বোঝালো যে কার সাথে আমি বেরিয়েছি।যদিও
সেটা ও মন থেকে বলেনি।জল আর সেই মুহুর্তে ওর খাওয়া
হলোনা।তবুও কথা বলতে বলতে আমার চোখ এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করছিলো জলের সন্ধান করতে।মেয়েটা
একটু জল চাইলো আর এনে দিতে পারলাম না তা ভেবেই
খারাপ লাগছিলো আমার।

মুখোমুখি দুটো চেয়ারে বসে আমাদের কথা শুরু হলো।আমি ওর দিকে বিহ্বল অবস্থায় তাকিয়ে আছি দেখে ও

প্রথম বললো-
-কী দেখছো অমন করে?
-তোমাকে।
-আমাকে দেখোনি আগে কখনও?
-এতটা সামনে থেকে তো না।
-তো দেখে কি বুঝছো?অতটা সুন্দর না আমি?
-অনেক বেশিই সুন্দর।
-ঢং..
-একটু আধটু তো করি।তুমিও জানো সেটা।তবে এখন ঢং
করছিনা।তোমার নাকটা দেখে হিংসা হয় আমার।
-কেন কেন?
-এমন লম্বা নাক।টিকোলো।
-তোমারটা তো বোঁচা।
-তাই তো হিংসে হয়।
-একদম নজর লাগাবেননা আমার নাকের ওপর।
-একশো বার দেবো।আমার প্রেমিকার নাক।আমি দেবো না
তো অন্য কেউ দেবে বুঝি।
-যদি অন্য কেউ দেয় তখন কী করবে?
-মেরে তার নাক ভেঙে দেবো।

-তো যাও..ওই যে নীল শার্ট পরা ছেলেটা বসে আছে ও দেখছে আমায়।যাও গিয়ে ওর নাক ভেঙে দিয়ে এসো দেখি
কেমন প্রেমিক তুমি আমার।
সেরেছে।কথার কথা তো বলে দিলাম।এবার।মান সম্মান তো সব জলে যাবে।বুকে ভয় নিয়ে তাও উঠে পরলাম।ও
করলো কী আমার হাতটা টেনে ধরে বললো-
-থাক।অনেক হয়েছে।বুঝেছি কেমন প্রেমিক তুমি।মুখেতেই
শুধু বড় বড় বাতেলা।

চতুর্থ ও অন্তিম পর্ব

আমি বললাম-
-আমি ওকে মারতে যাচ্ছিনা।তুমি মোমো খেতে চাইছিলে না
ওটাই আনতে যাচ্ছি।ছাড়ো।ওসব কেউ করতে যায় নাকি
আবার।
ও হাসলো।ওর ছেলেমানুষী হাসিটা দেখে আমি আবার মুগ্ধ
হলাম।ঝর্ণা যেরকম একগাল হেসে নদীর বুকে এসে মিশে
যায়।ওর হাসির জলধারাও তেমনই আমার বুকের মজা নদীতে বণ্যা হানে।

ওয়াও মোমো থেকে মোমো খাওয়ার ইচ্ছে ওর অনেকদিন
ধরেই।একপ্লেট মোমো,দুটো কোক নিয়ে এসে ওর সামনে
রেখে ওকে বললাম-
-নাও।তোমার প্রিয় খাবারটাই এনেছি।

ও বললো-
-তুমিও বসো।আমি একা খাবো নাকি সবটা।
আমি কাঁটা চামচে খাওয়ায় অভ্যস্ত নই কোনোদিনই।চেষ্টা
করলাম তবু হচ্ছে না দেখে ও আমায় বললো-
-হাতে করেই খাওনা।

তো হাতে করে খেতে গিয়ে আঙুলের এখানে সেখানে চাটনি
লাগিয়ে বসলাম।ও আমার কান্ড দেখে হেসে বললো-
-আমার কপালে এই হাঁদারামটাই জুটলো গা শেষে।
-কী আর করবে,একটু মানুষ করে নিও ছেলেটাকে।
-সেই তো দেখছি।এতো একটা বাচ্চাকে নিয়ে সারাজীবন
ঝক্কি পোহাতে হবে আমায়।
-কেন,এই বাচ্চাটাকে ভাল্লাগেনা বুঝি?
-তা কি বলেছি।বাচ্চাটার মনটাও তো বাচ্চাই আছে।।

ইয়ার্কি ঠাট্টা করতে করতে আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেলো
ওর জন্য যেগুলো এনেছিলাম সেগুলো তো দেওয়াই হয়নি।
আমি সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়া মাত্র ওকে বললাম-
-এই তুমি একবার চোখ বন্ধ করো।
-চোখ বন্ধ করলে খাবো কীকরে?
-উফফ..কথা না বলে করোই না একবার।

ও চোখ বন্ধ করলে পর আমি আমার ব্যাগ থেকে ওর জন্য
আনা নেলপলিশ আর লিপস্টিকটা বের করে ওর বন্ধ হাত
খুলে ওকে সেগুলো দিয়ে কিছু বলবার আগেই ও চোখটা
খুলে ওগুলো দেখে একগাল হেসে বললো-

-আরে..লিপস্টিক..নেলপলিশ..সবকটাই আমার পছন্দের
জিনিস তো।
-পছন্দ হয়েছে?
-খুব।থ্যাংক ইউ।

কথাটা বলে ও নিজের হাতে একপিস মোমো আমাকে খাইয়ে দিলো।এক তো মোমো গরম ছিলো।মুখের ভেতরে
তার তাপটা লাগলো।কিন্তু ওর হাতের ছোঁয়া ছিলো যে ওই
মোমোতে।যা আমার মনের গভীরতা অবধি জুড়িয়ে দিলো।
-এবার আমি একটু দিই খাইয়ে?

ও সঙ্গে সঙ্গে বড় করে হাঁ করলো।আর যেই না ওকে মোমো
টা খাওয়াতে গেলাম,ও দুষ্টুমি করে আমার আঙুলটা দিলো
কামড়ে।আমি আহ করে একবার অস্ফুট আওয়াজ বের করে ওর হাসিমাখা মিষ্টি চোখের ইশারায় হারিয়ে গেলাম।
আর খানিক আবেগের সুরেই জিজ্ঞেস করে বসলাম-

-ঠিক আছো তো?
ও চোখের ইশারাতেই বোঝালো যে সে এই মুহুর্তটা ভীষন
ভাবে খুশি।সেদিন সারাদুপুরটা জমিয়ে মনের কথা বলবার
পর আমাদের কারোরই একে অপরকে ছেড়ে আর ফিরে
আসতে ইচ্ছে করছিলোনা।তবু যে ফিরতে হবে।ওপর থেকে
নীচে নামবার সময় ও আবদার করলো সেলফি তোলবার।
আমি বললাম-

-ধুর..তোমার সাথে আমায় মানায় না।
ও আমার পিঠে একটা চড় দিলো।তারপর আমায় বললো-
-আসো তো তুমি।মানায় না আবার কি কথা।

দুজনে একসাথে প্রথমবারের জন্য সেলফি তুললাম।যদিও
ওর এতটা সামনে আসাতে আমার সারা শরীরে কেমন যেন
একটা কাঁপুনি দিয়ে উঠলো।এমনটা সচরাচর হয় না।হতেও
নেই হয়তো।ব্যক্তিগত অনুভূতি কী সবার ক্ষেত্রে আর সমান
হয়!

বিকেল চারটে পাঁচ হবে তখন ঘড়িতে।যেখান থেকে সেদিন
আমাদের জার্নিটা শুরু হয়েছিলো সেই বেলুড়ের চার নম্বর
প্ল্যাটফর্মের প্রথমের দিকে ওভারব্রিজটার ওপরে তখন দুয়ে
মিলে দাঁড়িয়ে আছি।দুজনের চোখে মুখের ভাষায় প্রকাশ পাচ্ছে যেন কেউ কাউকে ছেড়ে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছেটা
নেই।কিন্তু ফিরতে হবে।ট্রেনের এনাউন্সমেন্ট আর কিছুক্ষন
পর হয়ে যাবে জানি।আমার খুব ইচ্ছে হলো ওর হাতটা এক
বার স্পর্শ করতে।তবু কেমন জানি কিন্তু বোধ হচ্ছিলো যে
কীভাবে হাতটা ধরবো।তাই ওকে চোখের ইশারায় জিজ্ঞেস করলাম-
-হাতটা ধরবো একবার?
ও হাসি মুখে সম্মতি দিলো।আমি ধীরে ধীরে আমার হাতটা
বাড়িয়ে দিয়ে ওর হাতটা স্পর্শ করলাম।তখন শুধু এটাই মনে হচ্ছিলো যে যে এই হাতটাকে যেন আজীবন আগলে
এভাবে শক্ত করেই জড়িয়ে রাখতে পারি।তারপর ওর চোখের দিকে একবার তাকিয়ে জিজ্ঞেসও করে ফেললাম-

-ভালোবাসো আমায়?
ও প্রতিবারের মতই বললো-
-না।বাসিনা তো।একদমই বাসিনা।
আমি জানি ও কেন প্রতিবার এটা বলে।আসলে ওর এই না
এর মধ্যেই বড় একটা হ্যাঁ লুকিয়ে থাকে।যেটা ও প্রকাশ করতে চায়না।তারপর ট্রেনের এনাউন্সমেন্টের পর আমরা দুজনে দুজনের থেকে যখন দূরে সরে যাচ্ছিলাম তখন যেন আমাদের দুজনের চোখেই ফুটে উঠলো যেতে না চাওয়ার অভিলাষা।জানিনা আবার আমাদের কবে দেখা হবে।একরাশ অপেক্ষা রয়ে গেলো শুধু দুটো বাঁধ ভাঙা অন্তরের অন্ত:স্থলে।

এই গল্লটি পিডিএফ ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)