ভাইরাস
মিলন পুরকাইত
আদিত্য আর মানিক যখন ল্যাবরেটরিতে ঢুকল তখন বিখ্যাত বায়োকেমিস্ট ডক্টর প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী ল্যাবের অত্যাধুনিক ডিজিটাল কম্পিউটারের স্ক্রিনে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখছিলেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে আরেক ল্যাব সহকারী সৌমিক কয়েকটা ম্যানুয়েল ফাইল ঘাঁটছিল। আদিত্য আর মানিক দুজনেই দৃশ্যটা দেখে অবাক হল। ডক্টর ব্যানার্জীর সঙ্গে একটা মারাত্মক ভাইরাস প্রোজেক্টে তার সহকারী হিসাবে আদিত্য আর মানিক আজ সাত বছর ধরে কাজ করছে। ডক্টর ব্যানার্জী কোনওদিনই সৌমিককে খুব একটা ভালো চোখে দেখেন না। সৌমিক ল্যাব সহায়ক হিসাবে থাকলেও তাকে এই প্রোজেক্টের গোপন তথ্যগুলি কখনওই দেখাতেন না ডক্টর ব্যানার্জী। এই ভাইরাস প্রোজেক্টের যাবতীয় কনফিডেনশিয়াল তথ্য জানে তিনজন। ডক্টর ব্যানার্জী এবং তার সাথে আদিত্য এবং মানিক। সেখানে সৌমিক এই গবেষণা সংক্রান্ত কিছু কনফিডেনশিয়াল ফাইল ডক্টর ব্যানার্জীর সামনেই ঘাঁটাঘাঁতি করছে দেখে বেশ অবাক হল আদিত্য আর মানিক। তবে এই ল্যাবে আসার আগে নীচের স্টোর সেকশনের পাশ দিয়ে আসার সময়েই স্টোরম্যান যতীনবাবুর কাছে কিছু অদ্ভুত তথ্য জানতে পেরেছে দুইজনেই। তাই ল্যাবে ঢুকে তাদের অবাক হওয়ার পালা আরও বাড়ল। আদিত্য ডক্টর ব্যানার্জীকে জিজ্ঞেস না করে পারল না, ‘স্যার শুনলাম গতরাতে সারারাত আপনি নাকি ল্যাবেই ছিলেন?’
ডক্টর ব্যানার্জী প্রথমে উত্তর দিলেন না। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে ডিজিটাল স্ক্রিনে কিছু একটা খুঁজে চলেছেন তন্ময় হয়ে। সৌমিক একটা ফাইল থেকে মুখ তুলে দেখল, সে আদিত্যকে আড়চোখে দেখে নিয় ডক্টর ব্যানার্জীর উদ্দেশ্যে বলল, ‘স্যার, ডক্টর ব্যানার্জী, স্যার, শুনছেন, আদিত্য আপনাকে কিছু বলছে’।
এবারে যেন হুঁশ ফিরল ডক্টর ব্যানার্জীর। তিনি প্রথমে কিছুটা হতবাক হয়ে গেলেন তারপর বললেন, ‘কিছু বললে আমায়?’
ডক্টর ব্যানার্জীর গলাটা আদিত্য আর মানিকের কাছে কিছুটা পাতলা শোনালো। আদিত্য আবার তার আগের প্রশ্ন রিপিট করল। একটু হেসে ডক্টর ব্যানার্জী বললেন, ‘ইয়েস গতকাল রাত থেকে এখনও পর্যন্ত টানা এই ল্যাবেই রয়েছি’।
‘কিন্তু কেন স্যার? আমরা যখন সাড়ে আটটা নাগাদ এখান থেকে বেরোই, তখন আপনি বলেছিলেন যে আর ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে আপনিও বেরিয়ে যাবেন। নীচে পার্কিং-এ গতকালকের পার্কিং টিকিট লাগানো অবস্থায় আপনার গাড়ি দেখলাম, তখনই অবাক হয়েছি। কিন্তু স্যার আপনি এখানে থাকলেন কেন? আমাদের রিশিডিউলিং তো হয়ে গিয়েছিল’। জানতে চাইল আদিত্য।
ডক্টর ব্যানার্জী কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তারপর নিজেকে কিছুটা সামলে বললেন, ‘আসলে ফয়েল কন্টেনারগুলোর ইনডেক্সটা একবার চেক করার দরকার ছিল। তাছাড়া আরও কয়েকটা জিনিসের কিছু রি-সাফেলিং-এর দরকার ছিল। কয়েকটা নতুন মেটেরিয়াল হঠাত চলে আসবে বলে খবর পেলাম, তখনই ভাবলাম রাতটা ল্যাবেই থেকে যাই। তোমরা এমনিতেই রাত সাড়ে আটটা নাগাদ এখান থেকে বেরিয়েছ, তাই তোমাদেরকে আর না ডেকে সৌমিককে ডেকে নিলাম’।
ডক্টর ব্যানার্জী নিজে সৌমিককে ডেকেছেন তাদের বাদ দিয়ে এটা শুনেই আরও বেশি করে অবাক হল আদিত্য আর মানিক। মানিক তো জিজ্ঞেস করেই ফেলল, ‘স্যার নীচের স্টোরের যতীনবাবু বলছিলেন যে রাতে সৌমিকের সাথে ওভারকোট পরা আরেকজনকে তিনি ওপরে উঠতে দেখেছেন। সিঁড়ির এ’পাশটায় অন্ধকার থাকায় ভদ্রলোকের মুখ যতীনবাবু দেখতে পাননি। কিন্তু সৌমিককে চিনেছেন ভদ্রলোক। গতরাতে ল্যাবে কে এসেছিল স্যার?’
ডক্টর ব্যানার্জী আমতা আমতা করতে লাগলেন, কিন্তু সৌমিক হাতের ফাইল নামিয়ে রেখে স্বাভাবিক স্বরেই বলল, ‘ডালটন এসেছিল। আমাদের ল্যাব সাপ্লায়ার ডালটন। স্যারের কয়েকটা জিনিসের আর্জেন্ট দরকার ছিল, তাই ডালটনকে রাতেই ডেলিভারি দিতে বলা হয়েছিল। আমি যখন ল্যাবে আসার জন্য নীচে পৌছাই তখন ডালটনও এসে উপস্থিত হয়। দুজনে একই সাথে সিঁড়ি দিয়ে ল্যাবে উঠি। নীচে স্টোরে আলো জ্বলছিল দেখেছিলাম। নাইট ডিউটিতে যে যতীনবাবু আছেন সেটা ঠিক টের পাইনি। পেলে একবার তাকে হ্যালো বলে আসতাম’।
হঠাত ডক্টর ব্যানার্জী ডিজিটাল স্ক্রিনে যেটা খুঁজছিলেন সেটা যেন পেয়ে গেলেন। তার মুখে একটা হাসি ফুটল। যে ফাইলটা তিনি খুঁজছিলেন সেটা অবশেষে পেয়ে গেলেন। তারপর সেই সেভ ফোল্ডারের ভেতর ঢুকতেই দেখলেন সেটা পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড। শুধু তাই নয় রীতিমতো কোডেড পাসওয়ার্ড। তিনি একবার সৌমিকের দিকে তাকালেন। সৌমিক তার হাতের ফাইলটা এবার নামিয়ে রাখল। তারপর তার সাথে ডক্টর ব্যানার্জীর একটা চোখের ঈশারা হল। প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী তখন বেশ মাথা চুলকে আদিত্যর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ফাইন ফোল্ডার সিথার্টিনাইনটেন-এর পাসওয়ার্ডটা কি বল তো? আজকাল যে কি হয়েছে? মেমোরিটা ঠিক সাথ দিচ্ছে না’।
আদিত্য ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বেশ অবাক হল, তারপর বলল, ‘কি বলছেন স্যার, এটাই তো ভাইরাস ব্লু মাঙ্কির ফয়েল কন্টেনারের ডিটেলস-এর ফোল্ডার। গতকাল বিকেলে সেই ফয়েল সিরামে একটা নতুন কোড কেমিক্যাল জুড়ে সেটার সঙ্কেত এই ফোল্ডারে তুলে আপনি নিজের হাতে কোডেড পাসওয়ার্ড সেট করেছেন স্যার। সেসময় আপনি আমাদেরও ঘর থেকে বের করে দেন। সৌমিক তো আগে থেকেই বাইরে ছিল তখন। ফলে ওই ফাইলের একমাত্র কোড তো আপনিই জানেন স্যার। আর কেউ তো জানে না’।
ডক্টর ব্যানার্জী, ‘ও ইয়েস, ও ইয়েস মনে পড়েছে, আসলে কাজের এত চাপ, যাকগে বাদ দাও’, বলেই সৌমিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘গতকাল সে নতুন সিরামের লটটা এল সেটার থেকে একটা স্যাম্পেল ফ্রিজাররুম থেকে একটু নিয়ে এস তো’। সঙ্গে সঙ্গে একটা চোখের ঈশারা তিনি সৌমিককে করলেন। প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী খুব সাবধানে চোখের ঈশারা করলেও সেটা মানিকের চোখ এড়ালো না। ডক্টর ব্যানার্জী তারা থাকতে সৌমিককে এতটা বিশ্বাস করা শুরু করলেন একরাতের মধ্যে এই ব্যাপারটা শুরু থেকেই খটকা সৃষ্টি করছিল মানিকের মনে। তাই সৌমিক বেরিয়ে যেতেই মানিক ডক্টর ব্যানার্জীকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘স্যার স্টোররুমের যতীনবাবুর সাথে আমার একটু দরকার ছিল, আমি পাঁচমিনিটের মধ্যে আসছি’। বলেই মানিক বেরিয়ে গেল। সে যে যতীণবাবুর নাম করে আসলে সৌমিককে অনুসরণ করতে গেল সেটা ভালোমতই বুঝল আদিত্য, কারণ কিছু খটকা তার মনেও দেখা দিয়েছে। সে ডক্টর ব্যানার্জীকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘স্যার, যতীনবাবু বলছিলেন রাতে ল্যাব থেকে কথাকাটাকাটির আওয়াজ তিনি পেয়েছেন, ডালটনের সঙ্গে আপনার কি কোনও কারণে ঝগড়া হয়েছিল স্যার?’
ডক্টর ব্যানার্জী কেমন যেন একটু ভড়কে গেলেন, তারপর বললেন, ‘কই সেরকম কিছু হয়নি তো’, পরক্ষণেই আদিত্যর মুখের দিকে তাকিয়ে মত বদল করে বললেন, ‘আসলে একটা সিরামের পেটেন্ট প্রাইস নিয়ে ডালটন খুব গোয়ার্তুমি দেখাচ্ছিল। ভাবো তো আমার ওপরে গলা চড়িয়ে কথা বলছিল। কি আস্পদ্দা?’
আদিত্য সরাসরি ডক্টর প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জীর চোখে চোখ রেখে বলল, ‘আপনি শিওর স্যার, যে ডালটন আপনার ওপর গলা চড়িয়ে চোটপাট করছিল?’
‘হ্যাঁ তাই তো, ওর গলার আওয়াজই বোধহয় নীচের স্টোররুমের যতীনবাবু পেয়েছেন’। হলফ করেই বললেন ডক্টর ব্যানার্জী। তারপর আদিত্যর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কেন, বিশ্বাস হচ্ছে না?’
আদিত্য একটা বাঁকা হাসি হেসে বলল, ‘কি করে বিশ্বাস হবে স্যার? ডালটন যে কথাই বলতে পারে না। সে বোবা। তবে কানে শুনতে পায়, তাকে কল করা হলে সে তার সহকারী সেলিমের মারফত তার মতামত জানায়, তাছাড়া আজ দেখছি আপনি সৌমিকের ওপর ভীষণ নির্ভর করছেন। শুধু তাই নয়, আপনার এই বিশেষ পাওয়ার চশমা যেটা ছাড়া আপনি ওই ডিজিটাল কম্পিউটারের স্ক্রিনের লেখা দেখতে পান না, সেটাও ওই টেবিলের ওপরে পড়ে রয়েছে অথচ আপনি দিব্যি ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে বসে একের পর এক ফোল্ডার সার্চ করে চলেছেন, গতকালই নিজের সেট করা পাসওয়ার্ড মনে করতে পারছেন না আর আপনার গলার স্বরও একদিনের মধ্যেই বেশ পাতলা হয়ে গেছে। একমাত্র ম্যাজিক ছাড়া এতগুলো পরিবর্তন এক রাতের মধ্যে হওয়া তো সম্ভব নয়। আপনি ডক্টর প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী নন, একজন ভন্ড প্রতারক সেটা আমার বুঝতে আর বাকি নেই। তাই এবার বলে ফেলুব আসল ডক্টর ব্যানার্জী কোথায়? আর আপনার আসল পরিচয় কি?’
নকল প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ঘাবড়ে গেলেন। আর ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে একটা পরিচিত গলা ভেসে এল, ‘আমি বলছি, ও কে’।
আদিত্য চমকে পিছনে ফিরে দেখল দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে এলেন আসল ডক্টর প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী আর পেছন পেছন সৌমিকের আপ্রনের কলার ধরে তাকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে ঘরে নিয়ে ঢুকল মানিক। মানিকের হাতে যে সৌমিক উত্তম-মধ্যম ধোলাই খেয়েছে সেটা তার চেহারার অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে’।
আসল ডক্টর প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী ঘরে ঢুকে এসে আদিত্যকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘এ হল আমার যমজ ভাই এবং বংশের কুলাঙ্গার জুয়াড়ি এবং অপরাধী প্রদীপ্ত ব্যানার্জী। ঘটনার সব আদ্যপান্ত আমি তোমাদের বলব, তবে আদিত্য সবার আগেই সিকিউরিটিকে ডাকো, এই দুই শয়তানকে আগে বাঁধা দরকার’।
আদিত্য ইন্টারকমে নীচে সিকিউরিটিকে ইনফর্ম করতেই চার-পাঁচজন সশস্ত্র সিকিউরিটি গার্ড এসে সৌমিক আর প্রদীপ্ত ব্যানার্জীকে বেঁধে ফেলল। ল্যাবের সিকিউরিটি ইনচার্জ রত্নেশ্বর হালদার বাকি গার্ডদের মোতায়েন করে নিজে নীচে ফিরে গেলেন সেখান থেকে পুলিশকে ইনফর্ম করে একেবারে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওপরে এই ল্যাবে আসবেন বলে।
এর মধ্যে ডক্টর প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী বলতে শুরু করেছেন, ‘সৌমিক একজন জুয়াড়ি সেটা আমি আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু ওকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য সেটা যথেষ্ঠ কারণ ছিল না। তাই ওকে আমি গুরুত্বপূর্ণ প্রোজেক্টগুলো থেকে ইচ্ছে করেই দূরে রাখতাম। কিন্তু ও যে আমার জুয়াড়ি যমজভাইকে খুঁজে বের করে তার সঙ্গে জোট বেঁধেছে সেটা আমি জানতাম না। গতকাল রাতে আদিত্য আর মানিক বেরিয়ে যাবার ঘন্টাখানেক পরে সৌমিক প্রদীপ্তকে নিয়ে এসে হাজির হয়। প্রদীপ্তর মত জুয়াড়িকে সে এই ল্যাবে কেন এনেছে এটা জানার জন্য আমি রাগারাগি শুরু করি। সৌমিক তখন আমাকে জানায় আমি যদি সোজা পথে আমার ভাইরাসের ফর্মূলা ওকে না দিয়ে দিই তাহলে ও অন্য ব্যবস্থা নেবে। তখন সৌমিক আমার মাথায় অতর্কিতে আঘাত করে আর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। ভোরের দিকে যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি দেখি আমি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফ্রিজার রুমের এককোণায় পড়ে আছি। সৌমিক প্রদীপ্তকে ডক্টর প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী সাজিয়ে আমার তৈরি ভাইরাসের ফয়েল আর তার ফর্মূলা হাতাতে চেয়েছিল। ওরা হয়ত কোনও অপরাধ জগতের কালো শক্তি বা কোনও বিদেশী দুষ্কৃতি দলের সন্ধান পেয়েছে যাদের কাছে এই ভাইরাসের ফর্মূলা বিক্রি করে ওরা অনেক টাকা রোজগারের কথা ভেবেছে এবং যে কারণে এই বেপরোয়া সিদ্ধান্ত। তবে জুয়ার বাজারে ওদের অনেক দেনা আছে বলে আমি জানি। তবে আমার ভাইরাসের মারণ ক্ষমতা থেকে আমি নিজেই ভয় পেয়ে বিগত কয়েকদিনে আমি তাকে অনেকটাই ডায়ালুট করে এনেছি। আমি কোনও বায়ো ওয়েপন তৈরি করার জন্য এই ভাইরাস তৈরি করিনি। কয়েকটি জেনেটিক ডিসর্ডার জনিত রোগের চিকিৎসার কাজে লাগানোর জন্য এই ভাইরাস আমি তৈরি করেছি, কিন্তু কোনওভাবেই আমি একে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার হতে দেব না। তাই খুব কঠিন কোডেড পাসওয়ার্ড দিয়ে আমি একে সুরক্ষিত রেখেছি আর এর ফয়েল যে ফ্রিজারে রয়েছে সেখানকার কোডও জটিল এবং আমি ছাড়া তাকে অন্য কেউ খুলতে পারবে না কারণ আমার চোখের রেটিনা ও ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়া তার প্রথম লেয়ারই ওপেন করা যাবে না। তাই সারারাত ধরেও ওরা আমাকে বেঁধে রেখেও অদের উদ্দেশ্য সাধন করতে পারেনি। ইতিমধ্যে সকালে এখানে এসে আমার আসল দুই সহকারী আদিত্য আর মানিকের এদের কার্যকলাপ দেখে সন্দেহ হয় আর মানিক বুদ্ধি করে সৌমিকের পিছু নিয়ে আমাকে উদ্ধার করে, ততক্ষণে অবশ্য আদিত্য জাল প্রদ্যুম্ন ব্যানার্জী হিসাবে আমার যমজ ভাইটিকে চিনে ফেলেছে। এই সৌমিক আর প্রদীপ্ত, এদের মত লোকেরাই সমাজ আর দেশের আসল ক্ষতিকর ভাইরাস। এদের যথাযথ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এবারে এদেরকে যত দ্রুত সম্ভব পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অপেক্ষা’।
তবে বেশীক্ষণ সে অপেক্ষা আর কাউকে করতে হল না, কারণ একটু পরেই পুলিশের অফিসারদের নিয়ে ল্যাবে ঢুকে এলেন সিকিউরিটি ইনচার্জ রত্নেশ্বর হালদার। আগে থেকেই শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় থাকা সৌমিক আর প্রদীপ্ত ব্যানার্জীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অফিসারদের তাই আর বিশেষ অসুবিধা পোহাতে হল না।
