প্রত্যাবর্তন
মিলন পুরকাইত
দিশানীর চোখের জলের প্রতিটা ফোটা বলে দিচ্ছিল যে সে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। কিন্তু অভিজিৎ নিজের মাকে কথা দিয়েছিল যে সে আর কোনদিন কাউকে তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেওয়ার সুযোগ দেবেনা। আজও সে বড্ড ভালোবাসে দিশানীকে। তাই অনেক কষ্টে বুকে পাথর রেখেই সে দিশানীকে বলে
অভিজিৎ : দ্যাখ আজ তোর চোখের জলের কোনো দাম অন্তত আমার কাছে আশা করিস না, চলে যা তুই, আমি তোর যোগ্য নই।
দিশানী : কিন্তু অভি আমি তো আজ ফিরে যাওয়ার জন্য আসিনি। ক্ষমা করে দে আমায়। অভি প্লিজ! ভেবেছিলাম তুই আমাকে সুখে রাখতে পারবি না, আমি বুঝতে পারিনি যে সবাই আমার মুখ দেখেই ভালোবাসে, মন দেখে নয়। তাইতো তোকে কষ্ট দিয়ে আমি ভালো থাকতে পারলাম না।
অভিজিৎ : অনেক দেরি হয়ে গেছে রে, আমার জীবনে আর কারো কোনো জায়গা নেই। একটা সময় তোর হয়ে মায়ের সঙ্গে কম ঝগড়া করিনি। মা সবসময়ই বলতো আমরা তোদের সমকক্ষ নই, আমাদের সম্পর্ক বেমানান। কিন্তু আমি তার কোনো কথাই শুনিনি। তার যা প্রতিদান পেয়েছি তাতে আমার ভালোই শিক্ষা হয়েছে, আর না, তুই যা।
দিশানী : আমি মানছি সব দোষ আমার ছিল। তা বলে আমাকে এতো বড় শাস্তি দিসনা, আমার ভুল শোধরানোর একটা সুযোগ অন্তত দে, প্লিজ।
অভিজিৎ : না আর সম্ভব নয়। তুই আমাকে যেভাবে ভেঙে দিয়ে চলে গিয়েছিলি তাতে আমার মা এতোটা আঘাত পেয়েছে যে মায়ের স্ট্রোক অবধি হয়েছিল। আমি ছাড়া আমার মায়ের আর কেউ নেই। আমি অন্য কারো জন্য আমার মাকে আর কষ্ট দিতে পারবোনা।
দিশানী : আজ আমি তোর কাছে "অন্য কেউ" হয়ে গেলাম অভি?
অভিজিৎ : তার জন্য কি আমি দায়ী?
দিশানী : না, আমি দায়ী। কিন্তু কি করবো বল? কতবার ক্ষমা চাইলে আমাকে ক্ষমা করবি?
অভিজিৎ : যতদিন আঘাতটা ভেতর থেকে না মুছে যায়, ঠিক ততদিন।
দিশানী : আমি সারাটা জীবন তোর সাথেই থাকতে চাই। আমাকে ফিরিয়ে দিসনা প্লিজ। আজ আমি বুঝেছি যে তুই ছাড়া আমাকে আর কেউ এতো ভালোবাসতে পারবেনা।
দুজনের চোখের ভাষা দুজনের প্রতি আমৃত্যু ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছিল। অভিজিতের সেদিন দিশানীকে বুকে জড়িয়ে ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলনা। ভালোবাসা যে কোনো বাঁধন মানে না। ভালোবাসার মানেই হয়তো বারে বারে নিজের প্রাণের মানুষের কাছে ফিরে আসা নতুনভাবে।
