-- আপনার সমস্যা কি বলেন তো??? (আমি)
-- কেন বলুন তো??? ((সজীব))
-- বিগত ১১ মাস ৮ দিন ধরে আপনি আমাকে ফলো করছেন,, কিন্তু কেন??
-- ধন্যবাদ আপনাকে,,
-- কেন??
-- আমি কতদিন আপনাকে ফলো করি আমি নিজে জানিনা কিন্তু আপনি ঠিকই হিসাব রেখেছেন,,,, এমনিতেই ভালো লাগে তাই,,, আর পাহারা দিচ্ছি আমি,,।
-- কি পাহারা দিচ্ছেন আপনি??.
-- আমার সন্তানের জননী কে??
-- মানে কি??
-- এই কথার মানে যদি আপনি না জানেন তাহলে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কোন মানে হয় না,,, নতুন করে ক্লাস এইটে ভর্তি হবেন,,
-- ফাজলামো করছেন,,, আপনার মনে হয় না আমি বিরক্ত হচ্ছি,,
-- কোই,, আমি তো জানি তোমারও ভালো লাগে,,
-- ভুল জানেন আপনি,,, প্লিজ দয়া করে আর বিরক্ত করবেন না,,
-- তুমি অনেক সুন্দর সেটা জানো??
-- তো??
-- অনেক ছেলে তোমাকে ভালবাসতে চায়,,
-- আমি কি করতে পারি,,??
-- সবাই কে রেখে আমাকে ভালবসবেন,,, কারন আমি আমাকে অনেক ভালোবাসি,,,
-- দেখুন সামনে আমার পরীক্ষা আর জীবনে অনেক দুর যাওয়ার ইচ্ছে আছে আমার,, সেই স্বপ্নটাকে নষ্ট করতে চাই না,, প্লিজ,,
-- আমি কি সেই স্বপ্ন পুরনের সাথী হিসেবে থাকতে পারি না,, আপনার সাথে সারাক্ষণ ছায়া হয়ে,,???
-- না পারেন না,,, কারণ আপনাকে আমার একদম সহ্য হয় না,, প্লিজ ক্ষমা করবেন আমাকে,,
-- আমি কি আপনার যোগ্য না??
-- এখানে যোগ্য অযোগ্য বিচার কেন আসবে,,??
-- তাহলে কেন বললেন আমাকে আপনার সহ্য হয় না??
-- আপনি যে বারবার বিরক্ত করেন সেটা সহ্য করার মত না,
-- আমি কি করেছি বলেন?? হয়তো দেখতে মন চায় তাই দেখতে আসি তাই বলে কি আপনি আমাকে অপরাধী করবেন??
-- দেখুন আমি এখন এগুলো নিয়ে ভাবতে চাই না,, আমার জীবনে অনেক দুর যাওয়ার ইচ্ছে,, সেজন্য আমি এতটা দিন কোনদিন কাউকে জীবনে আসতে দেই নি,,, যদি কখনো সে সময় আসে তবে তখন ভেবে দেখব,,
-- আমি অপেক্ষা করব,,
-- আমি অপেক্ষা করতে বলছি না,,
-- কিন্তু আমি অপেক্ষা করে থাকব,,
-- যদি পরিশেষে অন্য কারো হয়ে যাই???
-- ভাগ্য কে মেনে নিব,, সেদিন হয়তো নিজেকে বলতে পারব অপেক্ষা করেছি আমর কপাল খারাপ ছিল,,, কিন্তু তার আগে যদি পিছনে সরে যাই তবে তো নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারব না,,
-- আমার আর সময় নেই,, ভালো থাকবেন আপনি,, আর বিরক্ত না করলে খুশি হতাম,,
-- বিরক্ত আগেও করিনি এখনো করবনা,,, শুধু ছায়া হয়ে ভালবেসে যাব,, যাতে স্বপ্ন টা ভালো করে দেখতে পারি,,
-- ভালো থাকবেন আপনি,,,
-- আপনিও,,
******** আমি নাজমা আক্তার বৃষ্টি বাবা একটা কোম্পানিতে জব করেন,,, মা জন্মের তিন বছর পরে মারা গেছে,,, বাবা আবার বিয়ে করেছেন সৎ মা খুব বেশি ভালোবাসে না,, ইতিহাস সাক্ষী আছে সৎ মা সবসময় ভালো হয়ে না,, তিনিও সেই কথাার মান রেখে এগিয়ে চলছিলেন,, আমার সৎ মায়ের দুটো সন্তান একজনের নাম আখি আরেক জন বাদল,,
আখি আমার চেয়ে ৬ বছরের ছোট,, আমার বয়স এখন ২০ বছর ৩ মাস,, বাদলের বয়স ১১ বছর,,, সৎ মা ভাল না বাসলেও আখি বাদল আমাকে বড়ো বোনের মত সম্মান করে,,
ওদের ভালবাসার তুলনা নেই,,, বাবা তো সবসময়ই আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন,,, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি আমি থার্ড ইয়ার,,, নিজের প্রসংশা করে বলছি না,, চেহারা শ্যামলা সুন্দর,,
*যার সাথে কথা বলে আসলাম তার না * সাইফুল ইসলাম সজীব * আমাদের কলেজের বিপরীতে তাদের একটা রেস্টুরেন্ট রয়েছে,, তার বাবা মা দুজনে বছর আগে এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে,, তারপর থেকে সজীব দোকানের মালিক,,
উত্তর বাড্ডা তাদের নিজেদের বাড়ি আছে,, দেখতে অনেক ভালো,, পড়াশোনা করেছেন,, বিএসসি কমপ্লিট,,, কিন্তু তার একটা দূর্বলতা আছে আর সেটা আমি,, কলেজ এ সবসময় আমাকে ফলো করেন সে,, আর এই বিষয়টা আমার আরো দুটি বান্ধবী জানেন,,
** বাসায় গিয়ে তাড়াতাড়ি গোসল করে খাটের ওপর বসে আছি,, ক্ষুধা লেগেছে প্রচুর সকালে কিছু না খেয়ে চলে গেছিলাম কলেজ এ,, খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম সন্ধ্যা বেলা পড়াশোনা করি,, এভাবেই দিন কেটে যায়,,,
এর অনেক দিন পর হাতিরঝিল ঘুরতে গেছিলাম আমি আর আমার ছোট বোন আখি আর একটা বান্ধবী,,
হঠাৎ করে সজীব কে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে রিক্সা করে হেসে হেসে কথা বলতে বলতে চলে গেল,, কেন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেছে,, সেদিন আর পড়াশোনা আহার নিদ্রা কিছুই ঠিক মতো হয়নি,,
পরদিন কলেজ গিয়ে সরাসরি তার রেস্টুরেন্ট গিয়ে হাজির,, সাহেব এখনো আসেনি,,, বয়স্ক একটা কাকা আছে ওখানে সে সজীব এর বাবার সময় হতে আছেন,,, তাকে জিজ্ঞেস করে জানলাম একটু পরে আসবে,, বলতে না বলতে সে হাজির,,
-- কি খবর মায়াবতী আজ নিজে আমার সামনে,,
-- আপনার সাথে কথা আছে আমার,,
-- বলেন,,
-- একটু সাইডে দাড়িয়ে বলি,,
-- আচ্ছা চলুন,,
-- মেয়েটি কে??
-- কোন মেয়ে??
-- যার সাথে রিক্সার ভিতর দেখলাম গতকাল??.
-- ওহহহহ আচ্ছা বুঝতে পারছি,, ও আমার মামাতো বোন,,
-- তার সাথে রিক্সার ভিতর কি??? আপনার না বাইক আছে,
-- আমি ওদের বাসায় যাচ্ছিলাম ওর সাথে,, মামি যেতে বলেছেন তাই,, আপনি কোথায় ছিলেন??
-- হাতিরঝিল ব্রিজের ওপর,,
-- সত্যি বলছি আমার মামাতো বোন,, কিন্তু তুমি হঠাৎ করে এত রেগে গেলে কেন বলতো???
-- তুমি করে কথা বলতে কে বললো???
-- সরি,,
-- ঠিক আছে সমস্যা নাই,, আপনিতো বয়সে বড়ো আমার,,, তুমি করে বলবেন কোন সমস্যা নাই,,, কিন্তু এর পরে জেন আর কখনো নিজের আপন বোনকেও রিক্সার ভিতর না দেখি,,
-- জি মনে থাকবে,,, কিন্তু আমার তো আপন বোন নাই,,,
-- জানি আমি,, উদাহরণ হিসেবে এটা বললাম,, আপনার মোবাইল নাম্বার টা দরকার আমার,, আর একটা কথা আছে,,
-- ০১৭-----+--- বলো আর কি বলবে???
-- কলেজে একটা ছেলে আমাকে প্রপোজ
করছেন,, আমি বলেছি আমার রিলেশন আছে,, সে বিশ্বাস করে না,,,
-- ঠিকই তো আছে,, তুমি তো সত্যি রিলেশন করনা কারো সাথে,,
-- ওহহহহ আচ্ছা,,, ভালো থাকবেন আপনি,,
-- নাস্তা করে আসছো তুমি??
-- হুম,,
-- ভালো থেকো বায়,,
কলেজে গিয়ে একটা ক্লাস করেছি তারপর মাঠে বসে আছি এমন সময় কলেজের সেই ছেলেটা আসলো,, সাথে আরো দুটি ছেলে,,
-- কেমন আছ বৃষ্টি???
-- ভালো,,, আপনি আবার আসছেন??
-- তোমাকে ছেড়ে কোই যাব বলো,, তুমি আমার ভালবাসা গ্রহণ কর প্লিজ,, আমি তোমাকে ভালবাসি,,
-- বললাম তো আমার বয়ফ্রেন্ড আছে,,
-- সমস্ত শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী জানে বৃষ্টি সিঙ্গেল,,
--আচ্ছা এক মিনিট দাড়ান,,, তাকে ফোন করি সে আসুক নিজের চোখে দেখবেন,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে,,
সজীব কে ফোন দিলাম রিং বাজাল কিন্তু সে কেটে দিল,, দ্বিতীয় বার কল দিব তার আগে সে বেক কল করেছে,,
-- কেমন আছ??? ( সজীব)
-- ভালো,, তুমি একটু কলেজ মাঠে আসবে ২ মিনিটের মধ্যে,,
-- কেন বলতো???
-- কলেজের সেই ছেলেটা আবার আসছে,, তাই
-- আমি আসতেছি এক্ষুনি,,
-- পাঁচ মিনিটের ভিতরে সে হাজির,,
আমি বললাম ঃ---
-- আসছো তুমি??? দেখ না এরা আমার কথা বিশ্বাস করে না,,
-- তুমি চিন্তা করো না,, দেখতেছি আমি,,
-- কি খবর ভাই??? একটা মেয়ে বলছে তার বয়ফ্রেন্ড আছে তারপর ও কেন ডিস্টার্ব করেন?? (সজীব )
-- ভালো লাগে তাই,,,
-- আপনি কতদিন হল এই কলেজ এ আসলেন,,,।
-- কেন বলুন তো??
-- আমাকে চিনেন আপনি???
-- না
-- সামনের রেস্টুরেন্ট টা আমার,,, কলেজের মোটামুটি সবাই চেনে,,
-- ওহহহহ আচ্ছা,, পাশের ছেলেটি বললো সজীব ভাই আসলে বুঝতে পারিনি আমি,,, আর কখনো হবে না,,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে,, বৃষ্টি তুমি ক্লাসে যাও,,
আজকের এই দিনে সজীব এর সাহায্য নিতে হয়েছে আমার,, কিন্তু তেমন কিছু মনে হয়নি আমার মনে হয় যেন নিজের লোকের সাথে কথা বলি,, আরো কিছু দিন চলে গেছে,, আর কোন ছেলে বিরক্ত করেনি শুধু সজীব ছাড়া,,
একদিন কলেজ থেকে বাসায় গিয়ে আমি তো অবাক,, আমার সৎ মা আমার বিয়ে সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন,, আমার জন্য সবাই অপেক্ষা করে আছেন,, আমি একেবারে আকাশ থেকে পড়লাম,, অনেক কষ্ট হইল কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারছি না,,
বাবা কেমন করুন দৃষ্টিতে তাকায় আমার দিকে,
রাতে অনেক ভেবে একটা উপায় বের করলাম,,, পরদিন সকালে সজীব কে কল দিলাম,, কল কেটে দিয়ে কল বেক করল,,
-- হ্যালো বৃষ্টি বলো????
-- আপনি সেদিন ও আমাকে কল কেটে বেক করছেন,, আজও তাই,, আপনি কি আমার নাম্বার চিনতেন???
-- হমমম চিনতাম,,
-- কখনো তো কল দেন নি,,
-- বিরক্ত না করার জন্য,,
-- এখন কি করেন আপনি??
-- বাসায় আছি,,, বের হব একটু পরে,,,
-- ঠিক দশটা বাজে আমার বাসার সামনে অপেক্ষা করবেন,, বাইক আনবেন না,, সি এন্ড জি নিয়ে আসবেন,,
-- কিন্তু কেন??.
-- তখন বুঝতে পারবেন,,
-- এখন তো ৮ঃ৫০ বাজে,,, একটু পরে আসি,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে,,,
-- আপু তুমি সত্যি সত্যি চলে যাবে???. (আঁখি)
-- তাছাড়া উপায় নেই যে আঁখি,,, (আমি)
-- কিন্তু কার কাছে যাবে তুমি???? ,
-- দেখি কোথায় যাওয়া যায়,, তবে তুই চিন্তা করিস না,, তোর সাথে আমি যোগাযোগ করে নিব,,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে মা বাজার থেকে আসার আগেই বেরিয়ে পরো,, নাহলে ঝামেলা হবে,,
-- হমমম তুই বইয়ের ব্যাগটা নিয়ে চল আমি কাপড়ের টা নিচ্ছি,,
মোবাইলটা হাতে নিয়ে সজীব কে কল দিলাম,, সাথে সাথে রিসিভ করে,,
-- হ্যালো,,, আপনি কোথায় আছেন??? (আমি)
-- বাসার নিচে,,
-- দাড়ান আপনি,,, আমি আসতেছি,,,
-- আচ্ছা,,
নিচে এসে আঁখির কাছে বিদায় নিয়ে সবকিছু সিএনজি তে উঠাইলাম,,, সজীব অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে,, হয়তো কিছু বুঝতে পারছে না,,
-- তাড়াতাড়ি চলুন,,, (আমি)
-- কোথায় যাব আমরা??? ( গাড়িতে ঢুকে বললো)
-- আপনার বাসায় যাচ্ছি,,,
-- মানে কি??
-- আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে,,, মা আমার বিয়ে ঠিক করছেন,,
-- তুমি কি রাজি না???.
-- রাজি হলে এখন আপনার সাথে কেন আমি??
-- সেটাও যুক্তির কথা,,
-- কতক্ষণ লাগে আপনার বাসা যেতে????
-- জ্যাম না হলে ১৫ মিনিট সময় লাগবে,, আর নাহলে,, ৩০-- ৪০ মিনিট বা বেশি,,
-- আচ্ছা তাড়াতাড়ি চলুন,,,
-- এখন কি করবে বলে ঠিক করেছ???
-- আপনি কিছু একটা বলেন,,
-- তোমাকে একটা মেস ঠিক করে দিব,, সেখান হতে পড়াশোনা করতে পারবে,, আমি তো আছি,,
-- না সেটা সম্ভব না,,
-- কেন??
-- আমার সৎ মা যেভাবেই হোক আমাকে খুঁজে বের করবেন,, আর তখন যদি জানতে পারে যে আমার বিয়ে হয়নি,, আবার বিয়ের ব্যববস্থা করবে,, লোকটা মা কে অনেক টাকার লোভ দেখিয়েছেন,,
-- তাহলে???
-- আমি বিয়ে করব???
-- মানে??
-- বিয়ে করব যাতে আর বিয়ে দিতে না পারে,,
-- কিন্তু হঠাৎ করে,,
-- তো কি হইছে???
-- কাকে বিয়ে করবে ঠিক করেছ কিছু???
-- হম করেছি,,,
-- জানতে পারি আমি??
-- অবশ্যই,,, চলে আসছি নাকি,,, যাক ভালো হল,, চলুন নেমে যাই,, এখনো অনেক কাজ বাকি,,
মোটামুটি ১০--১৫বছরের পুরনো বাড়ি,, তিনতলা সামনে গেটের পরে অনেকটা ফাকা যায়গা, একপাশে কিছু ফলের গাছ,, আরেক পাশে ফুলের গাছ আছে কিছু,, সজীব এর বাইক টা সিড়ির সামনে রাখা,,, সে দোতলায় ঘরে থাকে,, দরজা খুলে দুজনেই ঢুকলাম,, ভিতরটা অনেক আগোছালো পরিবেশের মত পরে আছে,, তিনটি বেড রুম একটা ড্রইং রুম,, একটা কিচেন,, তিনটা বাথরুম,, দুটি ড্রইং রুমে বারান্দা আছে,,
পরিবেশটা সুন্দর তাহেরি সাহেবের ওয়াজ মতে কোন ঝামেলা নেই, ভেজাল নেই,, রান্না ঘরে মনে হয় অনেক দিন চুলো জলে না,, সজীব এর রুমটা দেখে বোঝা যায় এটা কোন ব্যাচেলর ছেলের রুম,, কাপড় গুলো বেদে পল্লীর শীর্ণকায়,, ওর মা-বাবার রুমটা তেমনি পরে আছে,, হয়তো আজও সজীব এই রুমে এসে মা-বাবার স্মৃতি ভরা স্নেহময় মুখ লুকিয়ে ক্রন্দন নিস্ফল ভিতরে,, সত্যি বাসাটা আমার পছন্দ হইছে,,
-- কাকে বিয়ে করতে চাও তুমি??.
-- এত তাড়া কিসের??? সবে তো এলাম,,
-- কিন্তু সে যদি জানতে পারে তুমি আমার সাথে একটা ফাঁকা ফ্ল্যাটে আছো,, তোমাকে খারাপ মনে করবে,,
-- সে তো জানে,,
-- মানে কি???
-- আমি আপনাকে বিয়ে করব,,
-- সত্যি বলছ???
-- হমমম সত্যি,,, এত খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই,, কিন্তু একটা শর্ত থাকবে,,
-- আমরা দুজনে আলাদা রুমে থাকবো,, যেদিন আপনাকে আমি ভালবাসতে পারব সেদিন হতে আমরা একসাথে থাকব,, আর যদি ভালো ভালবাসতে না পারি তবে আমার পড়াশোনা শেষ হলে আমরা ডিভোর্স নিয়ে নিব,,
-- আমি রাজি আমার বিশ্বাস তুমি আমাকে ভালবাসবে,,,
-- সেটা সময় বলে দেবে,,
-- আমি আমার ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে আসছি,, আপনি কাজির সাথে কথা বলুন,,, যত তাড়াতাড়ি বিয়ে করে ফেলতে হবে,,
-- বিয়ে কেমন করে সম্পন্ন হয়েছে সেটা পাঠকের জানা নিশ্প্রয়োজন,, তবে শর্ত মত চলছে সবকিছু,, বিয়ে করে বাসায় এলাম আমরা,, দুপুরের খাবার খেয়ে আসলাম বাইরে,, নিজের রুম বুঝে নিতে হবে,,, বিকেল ৫ঃ১৩,,, রাতের খাবার রান্না করতে হবে,, কিন্তু বাজার তো করা নেই,, সবকিছু বাজার হতে আনতে হবে,, তাই আগে সে কাজটাই করতে হবে,,
--বাজার করতে হবে না??? (আমি)
-- কিসের বাজার??? (সজীব)
-- রাতে কি খাব আমরা??
-- বারে আমার বাইকে করে দুজনেই রেস্টুরেন্ট গিয়ে খেয়ে আসব,,
-- জি,,,,,, নাহ,,,, সাহেব,,, সেটা হচ্ছে না,,, আপনি সন্ধ্যার মধ্যে বাজারের ব্যাবস্থা করবেন,,, তাড়াতাড়ি,,, আর এই ফাঁকে আমি রুমটা পরিষ্কার করি,,, হাড়ি পাতিল তো আন্টির তা সবকিছু আছে, শুধু বাজার করতে হবে,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে,, আমি এক্ষুনি ফোন করে বলতেছি রেস্টুরেন্ট পাশ হতে কাকা বাজার করে পাঠিয়ে দিবেন,,,
-- বলবেন সবকিছু টোটাল আনতে,,
-- তুমি একটা লিস্ট করে দাও আমি যাই,,
-- সেটাই ভালো হবে,,, আমি লিস্ট করে ওর কাছে দিলাম,, সে বাজারে চলে গেছে,, আমি রুম গোছানো শুরু করলাম,, আংকেল আন্টির রুম আলাদা,, আরেকটা রুমে আমি থাকবো,,
** শোকেসে কাপড় রাখতে গিয়ে শোকেস টা খুলে আমি রীতিমত বিব্রত হয়ে গেছি,, সবগুলো ড্রয়ারে সাড়ি, থ্রি পিছ,, লেহেঙ্গা,, গেঞ্জি দিয়ে পরিপূর্ণ,, আর সবগুলো নতুন,, এত সুন্দর সুন্দর সাড়ি থ্রি পিছ সত্যি হারিয়ে যায় মন,, কিন্তু কার এগুলো???
কাপড় রাখা বাদ দিয়ে বই গোছানো শুরু করলাম,, রুম ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে গোসল শেষ করে শোকেস হতে একটা সাড়ি বের করে পড়লাম,,, ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখতে দেখতে সাহেব হাজির,,
--এই ধরো তোমার বাজার,,, এর পরে আমি তোমাকে একটা এটিএম কার্ড দিব সেটা দিয়ে ইচ্ছে মত বাজার করে নিও আমাকে মাফ করো ভাই,, কি ঝামেলা বাজার করতে,,
-- মামার বাড়ির আবদার নাকি,,
-- না অসহায় স্বামীর আবদার,,
-- আমি বাজার করতে পারি না,,।
-- আচ্ছা ঠিক আছে,, আমি করে দিব,, তুমি রান্না করো আর আমি একটু বাইরে যাব,,
-- রেস্টুরেন্টে যাবেন??.
-- পাগল নাকি তুমি,,,
-- কেন,???
-- বিয়ে করলাম মাত্র কয়েক ঘন্টা,, এখন যদি রেস্টুরেন্ট গিয়ে বসি সবাই বলবে টাকার কি নেশা,,
-- তাইতো,,, আচ্ছা ঠিক আছে,,
-- একটি কথা বলতে পারি,,
-- বলেন,,
-- তোমার পরনের সাড়ি টা মনে হয় তুমি শোকেস হতে বের করেছ,??
-- হমম সত্যি,,, কিন্তু আপনি ব্যাচেলর মানুষ এত কাপড় আসলো কি করে???.
-- আমি মার্কেট এ গেলে যখন যে শাড়ী সামনে পড়তো আর পছন্দ হতো,, তখনই কিনে নিয়ে আসতাম,, আর এগুলো এক বছরের ভিতর কিনেছি,,
-- তারমানে আমাকে ফলো করার পরে হতে,,
-- যথার্থ উবাচ বচন,,
-- সত্যি আপনার পছন্দ অনেক ভালো,
-- যার প্রমাণ তুমি নিজেই,,
-- মানে???
-- তোমার মতো সুন্দরী পছন্দ করেছি আমি,,
-- কচু,,
-- আচ্ছা বায়,,,
** সবকিছু গুছিয়ে রান্না করতে করতে প্রায় ১১ টা বেজে গেছে,, হঠাৎ মোবাইলর কথা মনে পড়ল,, সকালে বন্ধ করেছি,, নিশ্চয়ই বাসায় অনেক ঝামেলা হচ্ছে এখন,, বাবার জন্য চিঠি লিখেছিলাম একটা সজীব এর কথা উল্লেখ করিনি ,, আঁখি পৌঁছে দিবে ফোন চালু করে আগে সজীব কে ফোন দিলাম,,
-- হ্যালো কোই আছেন আপনি???
-- বাইরে,,, কেন???
-- ১১ টা বাজে আসবেন কখন??? রান্না করা শেষ,,,
-- তুমি খেয়ে নাও,, আমি বাইরে খাব,, আসতে একটু দেরি হবে দরজা লক করে ঘুমিয়ে পরো আমার কাছে চাবি আছে,,
-- ১০ মিনিটের ভিতরে বাসায় আসবেন,,, রাখলাম,,,
ফোন কেটে দিয়ে দেখলাম বাবা একটা মেসেজ করে রাখছেন আমাকে,, আমি পড়তেছি ঃ---
** বৃষ্টি তোর যথেষ্ট বয়স হইছে সৎ মায়ের সাথে রাগ করে এমন কিছু করিস না যার কারনে নিজের জীবন টা ধংস হয়ে যায়, আগামীকাল আমার অফিস টাইম এ কল দিস**
আপাতত কলেজ কিছুদিন যাব না,,, মা হয়তো লোক লাগিয়ে রাখবেন,,, অনেক কথা ভাবতেছি,, ১০ মিনিট পার হয়ে ১৮ মিনিট শেষ সাহেব মাত্র আসলেন,,,
-- আপনি কি সবসময় এতরাত করে বাসায় আসেন???
-- হমমম কেন???
-- অভ্যাস পরিবর্তন করুন, রাত ১০ টার ভিতর বাসায় আসতে হবে,, তবে যদি হঠাৎ করে জরুরী কাজ পরে তবে সেটা ১০ টা বাজার ২ ঘন্টা আগে জানাতে হবে,,
-- আর???
-- তিনবেলা বাসায় খেতে হবে,,,
-- আর???
-- আপাতত এগুলোই,,, পরে আরো কিছু বাড়তে পারে,,
-- খুব ক্ষুধা পাইছে,,
-- ফ্রেশ হয়ে আসুন,,
-- বাহ এত সুন্দর রান্না কর তুমি??.
-- ভালো লাগে?? চলবে তো????
-- চলবে মানে??? একদম দৌড়াচ্ছে,,,
-- ফাজলামো করছেন??
-- সত্যি বলছি আমি,,
-- তাহলে তিনবেলা বাসায় খেতে পারেন তো???
-- অবশ্যই,,,
রাত ১২ঃ৩৪ মিনিট,,, হঠাৎ সজীবের মোবাইল বেজে ওঠে,, মনে হয় ওয়াশরুমে,, মোবাইল ড্রইং রুমে,, এতরাতে কে কল দিবে ভেবে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি সোহানা নামে সেইভ করা,, কৌতূহল হয়ে আমি রিসিভ করলাম,, ঃ---
-- হ্যালো,, কি করো??? ( একটা মেয়ে )
-- আমি বৃষ্টি সজীব ওয়াশরুমে আছে,,,
-- সে তো ব্যাচেলর আপনি তারসাথে কি করেন??? কে আপনি??
-- আমি বৃষ্টি সজীব এর স্ত্রী,,
-- মানে কি ??? সে বিয়ে করছে কবে ???.
,
-- কেন বিয়ে করতে মানা নাকি???
-- না তা নয়,, কিন্তু আমরা আত্মীয় স্বজনরা কিছু জানতে পারলাম না,,, আর ও তো এমন না,,
-- ভালবেসে বিয়ে করলে সবসময় তো সবাইকে জানানোর সুযোগ হয় না,, তাই না???
-- কে ফোন করেছে??? ( সজীব )
-- জানিনা,, আপনি দেখে নিন,, বলেই আমি রুমে চলে গেলাম,,
** সারাদিন অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে,, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে,, বিছানা পত্র ঠিক করে বসেছি,,, এর ভিতরে সজীব আসলো,,
-- কি করো তুমি??
-- ঘুমাবো,, আর যখন তখন আমার রুমে আসবেন না,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে,, শুভ রাত্রি
-- বারান্দায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আছি ঘুমন্ত শহরের পানে,, প্রত্যেকটা বাড়িতে কিছু কিছু লাইট জ্বলে,, কেউ হয়তো স্বপ্ন দেখে আপন আলয়ে কেউবা বসে আছে নির্ঘুম নিবেশে,,
অনেক দিন কলেজে যাই নি, প্রায় ১৮-২০ দিন,, আজ ভাবছি যাব বাবার সাথে রোজ কথা হয়ে যখন বাবা অফিসে থাকেন,, সকাল ৯ঃ২০ সজীব এখনো ঘুমাচ্ছে,, তাকে ডেকে তুলে বললাম আমি কলেজ যাব,, ও তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আমাকে নিয়ে কলেজে নামিয়ে দিল,,
-- কখন ক্লাস শেষ হবে??
-- আমি ফোন করবো তোমাকে,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে,,।
-- শুনুন,, বেশি দুরে কোথাও যাবেন না,, রেস্টুরেন্টে থাকবেন,, মা যদি জানতে পারে বা কিছু করতে চায়,,
-- ঠিক আছে তুমি চিন্তা করো না,,
-- বায়,,
কলেজ শেষ করে বাসায় আসতে প্রায় ১ টা বেজে গেছে,, সকালে রান্না করে গেছি শুধু গরম করলেই হবে,, খাওয়া শেষ করে রুমে বসে আছি,,।
-- আমি বাইরে যাচ্ছি,, দরজাটা বন্ধ করে দাও,, ( সজীব )
-- এই ভর দুপুরে কোই যাবে তুমি???
-- একটু কাজ আছে,,
-- আরেকটু পরে গেলে সমস্যা কি??
-- আমি শাহবাগ যাব,,, তাই যেতে হবে,,
-- আচ্ছা ঠিক আছে,,
-- দরজা লক করে নিজের রুমে এসে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম উঠে দেখি ঘড়িতে বিকাল ৫ঃ২২।
সজীব কে ফোন দিলাম আশ্চর্য তার ফোন বন্ধ করে রাখছে,,, ফ্রেশ হয়ে ছাদে গেলাম,,
পরিবেশটা সুন্দর কোন রকম ভেজাল নেই,,
এমন পরিবেশে সজীব নামক মানুষটার পাশে থাকা বড়ো দরকার ছিল,, তার ভালবাসার জন্য নিজের মনের সাজানো কথার মালা,,
**শীতের সূর্য দুর্বল হয়ে গেছে এখনই,,
**হয়তো আর কিছুক্ষণ পরে সে বিদায় নিবে,,
**আকাশে পাখিদের দল ফিরে যাচ্ছে তাদের নীড়ে,,
**সজীবকে আমি ভালবাসতে শুরু করেছি মনে হয়,,
**মানুষটা এত সুন্দর করে ভালবাসতে জানে যে তার শত্রুও তাকে খারাপ বলতে পারবে না,,
**হয়তো যেকোনো সময় কানে কানে বলে দেব,,
** আমি তোমার সন্তানের জননী হতে চাই,,
**দেবে কি সেই অধিকার রাখবে কি পাশে এই অভাগীকে,,
**তোমার রান্না ঘরের দায়িত্বটা সারাজীবন পালন করতে চাই,,
**অসুস্থ তোমার মাথার নিচে আমার কোল রাখতে দিবে??
**তোমার কপালের ঘাম আমার শাড়ির আচল দিয়ে মুছতে দিবে??
** পূর্নিমা মিলনী রাতে জোছনা দেখবে আমার সঙ্গে??
** সকালে তোমার ঘুম ভাঙ্গার দায়িত্ব দিবে মোরে???
** গভীর রাতে আমার ঘুমন্ত মুখের পানে তাকিয়ে থাকবে তুমি??
** তোমার বুকের উপর আমার মাথাটা রাখতে দেবে তুমি???
** শাড়ী পড়তে সাহায্য করবে কি তুমি আমায়???
** আমার কপালের বাকা টিপটা সোজা করার জন্য হবে কি তুমি সেই নিঃশব্দে বয়ে আসা কথা??
রাতের জন্য রান্না করতে হবে তাই তাড়াতাড়ি নিচে চলে আসি,, সজীব কে আবার কল দিলাম নাম্বার এখনো বন্ধ,, মনে একটু চিন্তা কাজ করে কেন করে জানিনা,,
রান্না করে রাত ৮ঃ৪০+++ বই পড়তে বসলাম এখনো নাম্বার বন্ধ আছে,, মনটা ছটফট করে এমন কখনো হয়নি,,
দেখতে দেখতে রাত ১১ টা বেজে গেছে এত রাত ও বাইরে থাকে না আমি আসার পর হতে,,
দেরি হলে মোবাইল করার কথা কিন্তু তার নাম্বার ইতো বন্ধ বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি,, কত মানুষ যায় কিন্তু সে তো আসে না, নানান প্রকার উল্টো পাল্টা কথা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিলো,,
সত্যি সত্যি কান্না আটকে রাখতে পারি না আর চোখ দুটো বেয়ে পানি পড়ছে,, এমন কেন হচ্ছে?? রাত ১২ঃ৩৫ বাসা হতে রেস্টুরেন্টর দুরত্ব মোটামুটি কম না,, কিন্তু মনটা আর মানে না, বোরকা পড়ে বেড়িয়ে পড়ব ভাবছি,, যেই ভাবা সেই কাজ,,
রাস্তায় কিছু কুকুর একসাথে হাটাহাটি করছে,, নাইট গাইড কে দেখতে পাচ্ছি,, আমাকে বলল,,
-- কে আপনি??
-- জি আমার নাম বৃষ্টি,,
-- বাসা কোই,,??
-- আমি সজীব এর নাম ওর বাবার নাম আর বাড়ির লোকেশন বললাম,, সে চিনতে পারছেন মনে হয়,,
-- আচ্ছা তুমি সজীব এর স্ত্রী???
-- জি কাকা;
-- এত রাতে কোথায় যাও???.
-- সজীব বাসায় ফিরেনি এখনো মোবাইল বন্ধ বিকেল হতে,, তাই রেস্টুরেন্টে যাব,,
-- কিন্তু এত রাতে বেরোনো ঠিক না মা,, জানতো দেশের কি অবস্থা সে হয়তো কোন কাজে আটকে গেছে মনে হয়,,
-- কাকা ও কখনো ১০টার পরে বাইরে থাকে না,, আর দেরি হলে মোবাইল করার কথা,, তাই চিন্তা করতেছি,,
-- আচ্ছা চলো বড় রাস্তায় গিয়ে তোমাকে বাস বা সি এন্ড জি করে দিচ্ছি,,
-- ধন্যবাদ আপনাকে কাকা,,,
-- সি এন্ড জি নিয়ে রেস্টুরেন্টর সামনে গিয়ে দেখি সজীব ভিতরে বসে আছে,, ক্যাশ সামলে যাচ্ছেন সে,, একটা ছেলে আমাকে দেখে বললো,,
-- ভাবি আসসালামু আলাইকুম,,
-- ওয়ালাইকুম আসসালাম,, তোমার ভাই কখন হতে আছেন এখানে???
-- সেই বিকেল হতে ভাবি,,,
-- ওহ্হ,,, সোজা সজীব এর সামনে গিয়ে দাড়ালাম চোখের কোনে হয়তো এখনো পানি জমা আছে,, কারন রিক্সার ভিতর বসেও কান্না করেছি,,
-- তুমি হঠাৎ করে,, একলা কিভাবে বুঝলাম না???
-- কয়টা বাজে এখন??
-- হমমমম ওরে বাপরে ১ টা বাজে,,, সরি সরি খেয়াল করিনি,,
-- মোবাইল বন্ধ বিকেল হতে,,, কেন???
-- বলতে পারছি না,,, সিম সাপোর্ট নিচ্ছে না, কি যে হল??আচ্ছা দুই মিনিট দাড়াও,,,
-- দুজনেই বাইকে করে বাসায় যাচ্ছি চোখের কোনে পানি আর ঠোটের কোনায় ছোট্ট একটু হাসি,, দু'হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি,, সত্যি এমন অদ্ভুত আচরণ অনুভূতি প্রকাশ করার মত না,, ভালবাসার ছায়া খঞ্চ এত সুখের উল্লাসে দুলিতে চায় জানা ছিল না,,
বাসার সামনে গিয়ে বাইক পার্ক করে উঠতে গিয়ে বললাম,,,
-- আমি উঠতে পারব না,,।
-- কেন???
-- আমাকে কোলে করে নিতে হবে,,
-- পাগল নাকি??? ভাড়াটিয়া কেউ দেখলে আর মুখ দেখানো যাবে না,, চল তাড়াতাড়ি,,,
-- বললাম তো আমি পারব না,,
অবশেষে আমার জেদের কাছে হার মেনে আমাকে দু'হাতে আকলে ধরে কোলে করে দুইতলা আসলো,,
-- নামো দরজা খুলে দি""
-- হমমম নামাও,,,
-- দরজা খুলে দুজনেই ভিতরে গিয়ে তার বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়ে চিৎকার করে কান্না শুরু করলাম,,
-- এমন করে কাঁদছ কেন,,, কি হইছে তোমার???
-- আমি তোমাকে হারাতে চাই না সজীব,,, সত্যি অনেক কষ্ট হয়েছে আজ,, আমি কখন যে মনের অজান্তেই ভালবেসছি নিজেই জানিনা,, আমাকে তোমার বুকে সারাজীবনের জন্য ঠাই দাও,,,
-- সেটা তো অনেক আগেই দিয়েছি,,,
ছেলেদের নতুন শার্ট-প্যান্ট আর মেয়েদের নতুন শাড়ি আলাদা ব্যাপার। মেয়েদের নতুন শাড়ি পরা মানে একটা বিশেষ ঘটনা। সেই ঘটনা যখন ঘটে তখন লক্ষ করতে হয়।
আমি নতুন একটা শাড়ী পড়ে আছি,, এটা একদম নতুন শাড়ী তবে সজীব কিনে রেখেছিল আমার জন্য সেগুলোর মধ্যের একটা,, সজীব এখনো ঘুমাচ্ছে না হলে আমার শাড়ীটা এখনই দেখতে পারতো,,
অনেক্ষন আয়নার সামনে দাড়িয়ে ছিলাম,, নীল শাড়ির সাথে মিলিয়ে নীল টিপ পড়েছি কাজল শেষ হয়ে গেছে,, তাই আর কাজল দেয়া হলো না,,
হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আমি জানতাম না,, নাস্তা বানানোর জন্য রান্না ঘরে গেলাম,, পরটা ভাজি, ডিম আর নুডলস রান্না করবো । ময়দা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আমার মনে ছিল না, ভাগ্য ভালো ছিল আমি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্রের এমারজেন্সি ব্যাকআপ রাখি ।
যেমন চিনির কৌটা তে চনি রাখার পরে আবারও একটা কৌটার মধ্যে চিনি রেখে দিতাম । তার গায়ে লিখে রাখছি এটা এমারজেন্সি চিনি আর চায়ের কৌটা আছে ।
তাই এমারজেন্সি ময়দা বের করে রুটি তৈরী হলো ।
কলেজে একটা ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা আছে তাই যেতে হবে,, শরীর টা প্রচন্ড ব্যাথা করছে,, মনে হয় যে গতরাতের দুজনের একান্ত নিবিড় আলিঙ্গন আর অন্য ভুবনে হারিয়ে যাবার জন্য,,
এমন একটা রাত পার করার পরে এত সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার কোন মানে হয় না,, কিন্তু কলেজের জন্য সজীব এর পশমে ভর্তি বুক রেখে উঠতে হলো,,
ঘড়িতে সকাল ৭ঃ৪৮ বাজে । নাস্তা তৈরী কমপ্লিট হয়ে গেছে এখন সাহেব কে জাগানোর পালা । কাছে গিয়ে ডাক দিলাম :-
-- সজীব তাড়াতাড়ি ওঠো ।(কপালে হাত দিয়ে)
-- আহহহহহহ এত তাড়াতাড়ি কিসের সবে তো মাত্র ঘুম পড়ছি ।
-- প্রায় আটটা বাজে । তাড়াতাড়ি ওঠো আমি কলেজ যাব ।
-- কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম ।
-- স্বপ্ন পুরন হইছে ??
-- তোমার মত বউয়ের যন্ত্রণায় সালার ঘুমই তো পুরা হলো না । তাহলে স্বপ্ন কিভাবে পুরন হবে ?
-- একটা কথা বলি সজীব ।
-- বলো ।
-- রুটি পরটা বানাইছি । খুন্তি এখনো গরম আছে, নিয়ে আসবো ?
-- এমন করো কেন ? এখনই উঠতেছি আনার দরকার নেই ।
-- ভালো ছেলে গুড বয় ।
নাস্তা করে দুজনেই তৈরী হইলাম । আমি আমার রুমে আর সজীব ওর রুমে গেছে কিন্তু আজ বিকেলে তার সবকিছু আমার রুমে আনতে হবে । স্বামী স্ত্রী দুজনেই তো এক তাহলে পোশাক আলাদা রুমে কেন থাকবে ??
আমার চারটি বোরকা আছে আজ নীল কালারের বোরকা পড়লাম আমি । কিন্তু সজীবের দিকে তাকিয়ে মেজাজ ৩০০° হয়ে গেছে । কটকটে লাল একটা জামা পড়ছে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় । বললাম :-
-- সজীব এদিকে আসো । (আমি)
-- বলো ।
-- জামা খোলো তাড়াতাড়ি ।
-- এখন এ সময়ে কি করবে তুমি ?
-- দরকার আছে আমার ।
-- দেখ যা হবার রাতের আঁধারে হবে , নাহলে কলেজ থেকে আসো তারপর । এখন তো মাত্র আমি গোসল করলাম, আবার পুনরায় কে গোসল করবে।
-- তোমারে জনমের মত করাচ্ছি রাতের আঁধারে । জামা খুলতে বলছি কারন আমার নীল বোরকার সাথে মিলিয়ে আকাশি শার্ট পড়বে ।
-- ওহ আমি মনে করছি ,,
-- মনের ভিতর থাকে তো সবসময় এই কথা ।
বাইকের পিছনে বসে আছি আমি । দুজনেই মনে হচ্ছে সিনেমার মত নায়ক নায়িকা হয়ে রাস্তা দিয়ে চলে যাচ্ছি । কেউ কেউ দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে দেখে ।
-- ক্লাস শেষ হবে কখন ? (সজীব)
-- পরীক্ষা আছে প্রায় ১ টা বাজতে পারে ।
-- আচ্ছা ঠিক আছে ।
কলেজ গেইটে নামিয়ে দিয়ে সে চলে গেছে । আমি মাঠের পাশে অশ্বত্থ গাছের নিচে গেলাম জানি আমার বান্ধবীরা ওখানেই আছে ।
-- কেমন আছিস বৃষ্টি ? (বান্ধবী তমা)
-- ভালো আছি । তোরা কেমন আছো ? (আমি)
-- ভালো আছি । কিন্তু তোর মাথার চুল ভেজা মনে হয় । ঘটনা কি ?
-- কিসের ঘটনা ?
-- সকালে গোসল করছো ?
-- হমমম তো ?
-- তারমানে রাতে মেশিন চলছে তাহলে ?
-- চুপ কর !
-- প্লিজ বৃষ্টি শিখিয়ে দেনা ভাই ।
-- তোর ধারণা সঠিক হইছে , কাল রাতে আমরা একসাথে একরুমে ছিলাম ।
-- যাক বাবা অবশেষে ভালবাসা জাগলো তোর মনের ভিতর ??
-- হমমম । তবে স্বামীর পাশে জড়িয়ে সুয়ে থাকা কতটা আনন্দের আর তৃপ্তির ব্যাপার । সেটা বিয়ে নাহলে বোঝা যায় না ।
-- দোয়া করি তোরা সুখী হবি । আচ্ছা কতক্ষণ জেগে ছিলি দুজনে ?
-- কেন ?
-- বলনা দোস্ত শুনি ।
-- বলা যাবে না ।
-- কেন কেন ?
-- আজ বললে কাল এগুলো নিয়ে ব্লাকমেইল করে ফুসকা চটপটি খাওয়ানোর দাবি করবি ।
-- ধুর হারামি ।
-- চল ক্লাসে যেতে হবে ।
কলেজ শেষ হইছে মাত্র । ঘড়িতে ১১ টা ২৬ বাজে । সজীব গাজীপুর চৌরাস্তায় গেছে । আসতে সময় দরকার তাই আমাকে একটা সিএনজিতে যেতে বলেছে । কি আমি ২০০ টাকা দিয়ে সিএনজি তে না উঠে বাসে করে চলে যাব ভাবছি ।
সাড়ে বারটা বাজে বাসের ভিতরে তেমন ভিড় নেই । একটা বাসে উঠে খালি দুটো সিট দেখে জানালার পাশে বসলাম আমি । কিন্তু একটু পরে সামনে থেকে একটা সুদর্শন যুবক উঠলো । দেখতে প্রায় সজীব এর মত সুন্দর ঠিকঠাক । সে উঠেই ধপ করে আমার পাশে এসে বসলো আর আমি তো অবাক । এত সিট রেখে আমার পাশে কেন ?
হঠাৎ সে বললো :-
-- বাহহ সুন্দর তো !
-- আমি চুপচাপ ।
-- এত সুন্দর ও মানুষ হয় ?
-- আমি চুপচাপ ।
-- মেডাম শুনছেন ?
-- জি আমাকে বলছেন আপনি ?
-- জি,
-- ঠিক আছে বলেন ।
-- বলছি আপনি অনেক সুন্দর ।
-- তো কি হইছে ?
-- না মানে সবসময় তো সুন্দরী রূপবতী চোখে পরে না। তাই মনের অনুভূতি প্রকাশ না করে পারলাম না।
-- আচ্ছা ,, তা মনের অনুভূতি প্রকাশ করা শেষ হইছে আপনার ?
-- জি ।
-- তাহলে চুপ করেন ।
-- সুন্দরী তরুণীর এত রাগ ভালো না মেডাম ।
-- তো কি করতে হবে ?
-- মিষ্টি মুখ দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে হবে ।
-- দেখুন জন্মের পরে আমার মুখে মধু দিতে গিয়ে ভুল করে নিম পাতার রস দিছিল । তাই এরকম তিতে তিতে কথা আসে ।
-- আমি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সবুজ । আমি অস্ট্রেলিয়া হতে ডাক্তারি পাশ করে তিন মাস আগে দেশে আসলাম । উত্তরা আমাদের বাসা । আপনার নাম টা জানতে পারি আমি ?
-- নাজমা আক্তার বৃষ্টি ।
-- আপনার BF আছে ?
-- না নেই ।
-- বিশ্বাস করতে পারি না ।
-- আপনার ইচ্ছে ।
-- সত্যি সত্যি আপনার BF নেই ?
-- আপনি আমার কাছে কত টাকা পাবেন ?
-- ছি ছি ছি টাকা পাবো কেন ? আমাদের তো প্রথম বার দেখা ।
-- তাহলে আপনার সাথে মিথ্যা কথা বলে আমার লাভ কি বলেন ?
-- ওহহ সরি , আসলে এত সুন্দরী মেয়ের BF নেই সেটা মানা কষ্টকর ।
-- কিন্তু অসম্ভব তো না ?
-- না । আচ্ছা আপনার কাউকে ভালো লাগে না ? নাকি কেউ আপনাকে প্রপোজ করে না ?
-- আশ্চর্য আপনি এত কথা জিজ্ঞেস করেন কেন ?
-- দেখুন এটা লোকাল বাস । একটু পরে নেমে যাবেন এ জীবনে আর দেখা নাও হতে পারে । তাই জিজ্ঞেস করছি ।
-- ওহহহ আচ্ছা ।
-- বলেন না BF কেন নেই ।
-- আমি বিবাহিত, আমার স্বামী আছে তাই BF নেই আমার ।
-- ওহহহ আচ্ছা, কিন্তু এটাও অবিশ্বাস্য ।
-- কেন কেন ?
-- আপনার চেহারা দেখে মনে হয় না আপনি বিবাহিত ।
-- আর কি কি মনে হয় না আপনার ?
-- রেগে যাচ্ছেন কেন ?
-- তো ?
-- লাস্ট একটা অনুরোধ রাখবেন ?
-- রিকোয়েস্ট এর উপর নির্ভর করবে ।
-- আপনার ফেসবুক আইডি নাম টা জানতে পারি?
-- মিসেস সজীব । প্রোফাইল পিকচার এ পুরনো এক টাকার নোটের তিনটি হরিণের ছবি আছে ।
-- আপনার স্বামীর নাম সজীব ?
-- জী।
-- ধন্যবাদ আপনাকে ।
-- উত্তর বাড্ডা আপনাদের বাসা ?
-- জি আমার স্বামীর নিজের বাড়ি আছে ।
-- ওহহহ ।
বাস হতে নেমে তাড়াতাড়ি হাটা শুরু করলাম । আজ বাসায় গিয়ে রান্না করতে হবে এখন । সজীব কখন আসবে কে জানে ?
মধ্যোহ্নের দিকে, বাহিরে সূর্যের এত প্রকারন্তরে ঝলসানো রুপ আর চোখে পড়েনি,, পাখিরা গণবিলুপ্তির আগেই নীড় বাঁধার অবিরাম অন্তহীন ছায়ায় আশ্রয় করে,,
নিচে সজীব এর বাইক রাখা আছে তারমানে সজীব বাসায় আছে ? কিন্তু আমাকে তো বললো ও এখন গাজীপুর চৌরাস্তায় গেছে ।
সিড়ি দিয়ে উপরে গিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে ই আমার শরীরের সমস্ত রক্ত হিম হয়ে গেল । দরজার সামনে সজীব এর আর একটা মেয়ের জুতা দেখা যায় । আমার ১ টা বাজে আসার কথা ছিল তাই সে সুযোগে মেয়ে নিয়ে হাজির ???
অনেকক্ষণ ধরে কলিং বেল টিপছি কিন্তু দরজা খোলার নাম গন্ধ নেই । দুচোখ বেয়ে সত্যি এবার পানি এলো । সজীব এর মোবাইলে ফোন দিচ্ছি কিন্তু রিং বেজে যাচ্ছে রিসিভ করছে না ।
আমার দুটি পা অচল হয়ে আসছে মনে হয় এখনই ভেঙ্গে পড়বো । নিরুপায় দরজার সামনে সিড়িতেই বসে পড়লাম আমি ।
হঠাৎ করে সজীব দরজা খুলে বেরিয়ে এলো । সে খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো ।
-- বসে আছো কেন ? ভিতরে আসো ।
-- রুমের মধ্যে কোন মেয়ে আছে ?
-- কেউ নেই ।
-- তাহলে এই জুতা কার ?
-- তোমার ।
-- মানে কি ?
-- তোমার জন্য কিনেছি ।
-- এতক্ষণ দরজা খোল নি কেন ?
-- বাথরুমে ছিলাম ।
-- তুতুমি এখন বাহিরে দাঁড়িয়ে রবে আমি সমস্ত ঘর চেক করবো ।
-- কেন কেন ?
-- তুমি মেয়ে কোথায় লুকিয়ে রেখেছো ?
-- বললাম তো কেউ নেই ভিতরে ।
-- একদম চুপ ।
প্রতিটি রুমের মধ্যে চিরুনি চালিয়ে কোন কিছুই তো পেলাম না । তাহলে কি সত্যি কেউ নেই ? যাক বাবা এতক্ষণে মুখের কোনে হাসি ফুটলো আমার । আমি দরজা খুলে সজীব কে ভিতরে আনলাম ।
-- কোথায় লুকিয়ে রেখেছো বলো ? (আমি )
-- কাকে ? (সজীব)
-- নাটক করবে না ।
-- সত্যি বলছি কেউ নেই ।
-- তাহলে তুমি নাকি গাজীপুর ? বাসায় কি করো ?
-- রুমে চলো একটু আদর করতে দাও তারপর বলছি ।
-- এখন আমি রান্না করবো ।
-- গোসল করে তারপর করবে সমস্যা কি ?
-- তারপর দুপুরের খাবার সন্ধ্যা বেলা খাবো ?
-- প্লিজ চলো না ।
-- হবে না । তুমি আমাকে কষ্ট দিছো ।
-- কিভাবে ?
-- বাসায় বসে আছো তবুও তুমি আমাকে আনতে গেলে না কেন, ?
-- তাড়াতাড়ি কাছে পাওয়ার জন্য ।
-- মানে ?
-- আমিও বাইক নিয়ে হাজির হবো । আর তুমিও সিএনজি করে আসবে তাই ।
-- ইসস কত সখ , সন্তান হলে এই ভালবাসা কোই যায় দেখবো ।
-- সে আরো পাঁচ বছর পরে চিন্তা করবো ।
-- কেন কেন ?
-- দুজনেই আলাদা রোমাঞ্চকর পরিবেশ দেখে কাটাবো ।
-- একটা কথা ছিল ।
-- বলো ।
-- চলনা দুরে কোথাও ঘুরে আসা যাক ।
-- তোমার কলেজ ?
-- সপ্তাহ খানিকে বেশি কিছু হবে না ।
-- তাহলে কক্সবাজার যাবে ?
-- সত্যি সত্যি নিয়ে যাবে ?
-- হমম সত্যি সত্যি ।
-- তাহলে দু তিন দিনের মধ্যে চলো ।
-- আচ্ছা ঠিক আছে ব্যবস্থা করছি আমি ।
-- তুমি ফ্রেশ হয়ে লম্বা একটা ঘুম দাও । রান্না করে আমি তোমাকে ডাক দিব ।
-- আচ্ছা একটা কথা বলি ?
-- বলো ।
-- তুমি আমাকে সন্দেহ করছিলে কেন ?
-- কারন ছিল তাই ।
-- একটা গল্প শুনবে ?
-- বলো শুনি ।
--বল্টু গেল ডাক্তারের কাছে,তার পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা।
-কীভাবে হল? ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন।
-আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে দেখলাম আমার স্ত্রী নেই,শেষে বারান্দায় একটা কিছুর শব্দ পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখলাম আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছে আর একটা লোক শার্ট পরতে পরতে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। আমি যা বোঝার বুঝে নিলাম আর বাসারডিপ ফ্রিজটা তুলে লোকটার
গা বরাবর ছুড়ে মারলাম। এত বড় ফ্রিজটা ছুড়ে মারতে গিয়ে এই অবস্থা।
বল্টু চলে যাওয়ার পর ডাক্তারের কাছে গেল দ্বিতীয়
রোগী,যার অবস্থা আরো খারাপ। সে জানাল-আজ থেকে আমার নতুন চাকরিতে যোগ দেয়ার কথা, সকাল উঠে দেখি অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই শার্ট
পরতে পরতে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে ছিলাম, হঠাৎ
কোত্থেকে একটা ফ্রিজ এসে ধড়াম করে পড়ল আমার পাশে । এবং সামান্য ছিটকে গায়ে লাগলো ।
এরপর এল তৃতীয় রোগী,তার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সে বলল -বড় একটা বিপদ থেকে বাঁচতে ডিপ ফ্রিজের ভিতর ঢুকে বসে ছিলাম, তারপর
কোন এক হারামজাদা এসে ডিপ ফ্রিজটাই রাস্তায়
ফেলে দিল...!
-- হাহাহা হাহাহা হাহাহা । তাহলে তো এক্ষণই আমার ফ্রিজ খুলে চেক করতে হবে ।
-- করো ।
-- তার দরকার নেই ।
-- কেন ?
-- তুমি আর আমি একই বডি স্প্রে ব্যবহার করি । আর সকালে তোমার সাথে যাবার সময় জড়িয়ে ধরে গিয়েছিলাম । এখন রুমের মধ্যে যদি অন্য কেউ আসতো তবে তোমার শরীরে তার গন্ধ পেতাম ।
-- তবুও প্রমান দেখে মানলে । কিন্তু বিশ্বাস করো না তুমি ?
-- চুপচাপ গোসল করতে যাও ।
-- সকালে তো গোসল করেছি আমি ।
-- বাহিরে গিয়ে ধুলাবালি আর শরীরের ঘামাের গন্ধ আসছে ।
-- তাহলে একটু আগে বললে কেন বডি স্প্রে ঘ্রাণ আসে ?
-- বডি স্প্রে ঘ্রাণ আসে ঠিক আছে কিন্তু সেটা বাসি ঘ্রাণ । যাও আমাকে কাজ করতে দাও ।
-- আমি তোমাকে সাহায্য করি ।
-- কোন দরকার নেই যাও ।
✍✍✍✍ দুই দিন পরে ।
এখন রাত নয়টা বাজে । আমরা বসে আছি নতুন বাজারের পরে নর্দা ওভার ব্রিজের নিচে Shohag Paribahan এর কাউন্টারে । সাড়ে নয়টার সময় গাড়ি আসলো , আমরা দুজনেই গাড়িতে উঠলাম ।
Shohag Paribahan এর Scaenia ব্রান্ডের গাড়ি কালার হচ্ছে সাদা । প্রতিটি টিকিটের মূল্য ১৮০০ টাকা তবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হোটেলে বুফে খাবার ব্যবস্থা আছে ।
নিজের পাশে একজন বৃক্ষের ছায়ার মতো মানুষ থাকলে নিশ্চিন্তে ঘুমের রাজ্যে যাওয়া যায় । সজীব হচ্ছে আমার সেই ছায়া যেটাকে বিশ্বাস করে আমি সবকিছু উজাড় করতে পারি ।
সকাল সাড়ে দশটা বাজে আমরা কক্সবাজার বাস টার্মিনালে এসে নামলাম । আমরা যাব এখানকার ভালো হোটেল Hotel Sea Force এ ।
সারারাত জার্নি করার জন্য শরীর ভালো না , তাই গোসল করে দুজনেই লম্বা একটা ঘুম দিলাম ।
👉👉👉
বিকেলে দুজনেই সমুদ্র দেখতে বের হলাম । বিশাল আকাশে তাকিয়ে সৃষ্টির অপরুপ চিত্র কল্পনা করি । সঙ্খচীলের দল অজস্র দেখা যায় মানুষের মাঝে মিশে আছে ।
পৃথিবীতে অজস্র বার ফিনিক ফোটা পুষ্প কলি জোছনায় পরী আসবে । শরৎকালে শ্রাবন মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে । সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না।
ভালোবাসার মাঝে হালকা ভয় থাকলে, সেই ভালোবাসা মধূর হয় । কেননা, হারানোর ভয়ে প্রিয়য়জনের প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়!!
পৃথিবীর কিছু মানুষ জন্ম থেকে অতৃপ্ত । এদেরকে তৃপ্ত করার চেষ্টা করাও বোকামি । ওরা অতৃপ্ত থেকেই তৃপ্ত হয় ।
-- কি বিচিত্র সুন্দর তাই না ? (আমি)
-- হুম অনেক সুন্দর । (সজীব)
-- তুমি আগে কখনো এসেছো এখানে ?
-- একবার পিকনিক করার জন্য এসেছি । মা-বাবা তখন জীবিত ছিল ।
-- তোমার সাথে জীবনের সুতোয় বাঁধা হয়ে আজ সত্যি আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ ।
-- কেন ?
-- জীবন টা কানায় কানায় পরিপূর্ণ ।
-- একটা কথা বলি ?
-- বলো ।
-- আমি ১ বছর তোমার পিছনে ঘুরেছি কিন্তু তোমার কি তখন একবারও ইচ্ছে করেনি আমাকে ভালবাসতে ?
-- করেছে ।
-- তাহলে সাড়া দেও নি কেন ?
-- আমি জানতাম তুমি আমার , তাই অপেক্ষায় রেখেছি ।
-- যদি আর কারো সাথে রিলেশন শুরু করতাম ?
-- খুন করে ফেলতাম , কেন মনে নেই ? তোমাকে হাতিরঝিল একটি মেয়ের সঙ্গে দেখে পরেরদিন কি বলছি ?
-- হমমম মনে আছে !
-- সেটাই সাহেব ।
-- ডাব খাবে তুমি ?
-- হুম ।
-- আচ্ছা দাড়াও আমি নিয়ে আসি ।
জীবনটা আসলেই অনেক সুন্দর! এতো বেশি সুন্দর যে, মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে । মিনারের মতো সাদা মেঘ সোনালি চিলেরে হাতছানি দিয়ে তার জানালায় ডাকে । বন বেতের লতার নিচে চড়ুয়ের ডিম যেন শক্ত হয়ে আছে । নরম জলের গন্ধ দিয়ে নদী সমুদ্র বারবার তীরটিরে মাখে এরা আলোকিত করে ।
শুকনো পাতা খড়ের চালের ছায়া তিমির গাঢ় রাতে জোছনার উঠানে পড়িয়াছে কমল স্পর্শ । বাতাসে ঝিঁঝির গন্ধ আসছে বৈশাখের প্রান্তরের সবুজ বাতাসে নীলার মনে। নীলাভ নোনার বুকে ঘর রস গাঢ় আকাঙক্ষায় নেমে আসে জীবনের অপার্থিব দৃশ্যের আশীর্বাদ ।
-- আপনার নাম বৃষ্টি না ?
(পিছনে ফিরে দেখি সেই লোকাল বাসের ডাক্তার)
-- জি , আপনি এখানে ?
-- চিনতে পারছেন আমাকে ?
-- জি আপনি ডাক্তার ।
-- ধন্যবাদ মেডাম ,
-- ধন্যবাদ কেন ?
-- মনে রাখার জন্য ।
-- ওহহ আচ্ছা । তা আপনি কি বেড়াতে আসছেন এখানে ?
-- জি , আপনি ?
-- হমম আমি আর আমার স্বামী বিয়ের পরে এটাই প্রথম দুরে কোথাও আসা ।
-- আপনার স্বামী কোই ??
-- ডাব কিনতে গেছে ।
-- আপনার স্বামীর নাম টা জানতে পারি ?
-- মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব ।
-- নাইস নেইম । কি করেন তিনি ?
-- রামপুরা ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমাদের একটা রেস্টুরেন্ট আছে ।
-- ওয়াও বিজনেস হচ্ছে দুনিয়ায় সবচেয়ে ভালো কাজ । কারন এতে নিজের ভাগ্যের চাকা তো ফিরবেই , তখন আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ।
-- হমম তা ঠিক । ওই যে আমার স্বামী সজীব ।
👉👉
-- হ্যালো সজীব ভাই , কেমন আছেন আপনি ? আমি ডাঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সবুজ । R
-- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি , আপনি কেমন আছেন ভাই ? S
-- জি আলহামদুলিল্লাহ ভালো । আপনার স্ত্রীর সাথে কিছুদিন আগে লোকাল বাসে পরিচয় হয়েছে । কিন্তু কি কাকতালীয় আজ আবারও দেখা হয়ে গেল । R
-- ওহহ আচ্ছা তাই নাকি ? S
-- জি । আচ্ছা আপনারা কোন হোটেলে আছেন ? R
-- Hotel Sea Force . U ? S
-- আমি Hotel Rose for Love এ আছি । R
-- আচ্ছা আচ্ছা । S
-- ঠিক আছে ভালো থাকবেন , আবারও দেখা হবে বৃষ্টি যাই তাহলে ? R
-- আচ্ছা ঠিক আছে আপনিও ভালো থাকবেন ।
✍✍✍
রাতের ডিনার কমপ্লিট করে হোটেলের রুমের এটেস বারান্দায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি । রাস্তা দিয়ে সা সা করে গাড়ি চলে যায় । মৃদু বাতাস আসছে ঐ আকাশেন গায়ে অর্ধচন্দ্র দেখা যায় ।
-- ডাক্তার ছেলেটার সাথে তোমার কবে পরিচয় হয়েছে ? (সজীব)
-- তিন চার দিন আগে যেদিন তুমি গাজীপুরের কথা বলে বাসায় ছিলে । (আমি)
-- তারমানে তুমি সিএনজি তে বাসায় যাও নি ?
-- না বাসে করে গেছিলাম আমি ।
-- কেন টাকা ছিল না ?
-- ছিল , কিন্তু যাই নি আমি । আর তাতে সমস্যা কি হইছে শুনি ?
-- খুব বড় সমস্যা ।
-- কি রকম ??
-- এখন সে তোমার পিছু পিছু এই কক্সবাজার এসে গেছে তারপরও বলছো কি রকম ?
-- দেখ সজীব এটা কাকতালীয় একটা ঘটনা ।
-- রাখ তোমার কাকতালীয় ঘটনা , সালার চোখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে নিশ্চয়ই গভীর কোন মতলব আছে বেটার ।
-- তুমি তাকে সালা বলো কেন ?
-- তোমার দরদ হচ্ছে নাকি ?
-- আশ্চর্য বিনা কারণে কেন বলবে ?
-- ১০০ বার বলব ১০০০ বার বলব ।
-- চুপ করো সজীব , ভাল্লাগে না এসব । আর আমরা এখানে বেড়াতে আসছি তৃতীয় ব্যাক্তি কে ঝগড়া করার জন্য নক ।
-- তুমি তার সাথে আর কথা বলবে না ।
-- কেন ? কথা বললে কি এমন ক্ষতি হবে ?
-- আমি বলছি তাই বলবে না । লাভ ক্ষতি আমি বুঝতে চাই না ।
-- আর যদি কথা বলি ?
-- তাহলে তখন খুব খারাপ হয়ে যাবে ।
-- কি খারাপ হবে শুনি ?
-- সময় হলে দেখতে পাবে তুমি ।
-- তুমি খুব বাড়াবাড়ি করছো সজীব ।
-- মোটেই না , বরং তুমি একটা অজানা অপরিচিত মানুষের জন্য আমার সঙ্গে এমন করছো ।
-- অজানা অপরিচিত মানে কি ? তার পরিচয় তো সামান্য জানি । আর শোন সজীব তোমার মত নিচু মনমানসিকতার মানুষের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না । আমি ঘুমাতে গেলাম ।
✍✍✍
বিছানায় সুয়ে সুয়ে অনেকক্ষন জেগে আছি । সত্যি সত্যি কি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে নাকি ঠিক আছে ? সজীব তো খারাপ কিছু বলে নাই । সে তো আমাকে ভালবাসে আর তার জন্য সে আমাকে হারানোর ভয় করতেই পারে । এটা তো তার অপরাধ না বরং আমার জন্য অজস্র ভালবাসা । তাহলে কেন আমি তাকে ওভাবে কথা বললাম ?
সজীব এখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে , হয়তো সে আমার ব্যবহারের জন্য কষ্ট পেয়েছে । কিন্তু সে কি জানে যে , আমিও তার জন্য চিন্তা করছি ? সে কি জানে যে , তাকে ছাড়া আমারও চোখে ঘুম নেই ।
আমি বিছানা হতে উঠে বারান্দায় সজীব এর সামনে গিয়ে দাড়ালাম । চুপচাপ দাড়িয়ে আছে সে । আমার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আমি কোন কথা না বলে সজীব এর বুকে ঝাপিয়ে পড়ে ফুপিয়ে কান্না শুরু করে দিছি ।
-- সত্যি বলছি সজীব এই বুক টা ছাড়া আমার আর কোন কিছু চাই না । (আমি)
-- ( সজীব চুপচাপ )
-- বিছানায় যাবে না ?
-- না । (সজীব)
-- আমার একা ভালো লাগে না , আর বললাম তো এমন হবে না কখনো । প্লিজ চলো ।
-- কালকেই আমরা চলে যাব বৃষ্টি ।
-- কেন কেন ?
-- হুম ।
-- কিন্তু কি সমস্যা বলো ?
-- তুমি ঐ ছেলের,,,,,,,,,,,,,,,
,
,
ওর কথা শেষ হবার আগেই আমি আমার দুটি ঠোঁট ওর মুখের কাছে নিয়ে ঠোটের সাথে মিলিয়ে দিলাম। আর বিশাল একটা Lippe kiss হয়ে গেল । স্বামী স্ত্রী দুজনের চরম সুখটা উপভোগ করার শরীর প্রস্তুত করার জন্য যেটা যথেষ্ট ।
আমার সমস্ত শরীর শিহরিত হয়ে গেছে , প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গ বলছে সজীব কে কাছে চাই । পরম তৃপ্তি পাওয়ার বাসনায় মানববন্ধন করছে দেহের দাবি । সজীব এর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করছি কিন্তু কারোরই কোন হিতাহিত জ্ঞান নেই । দুজনেই মনে হয় হারিয়ে গেছি কোন এক স্বর্গ সুখের রাজ্যে ।
আমার একটা বান্ধবী একদিন বলেছিল , স্বামী স্ত্রী রাতে ঝগড়া করার পরে । সেই রাতেই যদি তারা দুজনেই অভিমান ভুলে গিয়ে জীবনের চরম সুখটা উপভোগ করে । তবে সেটা নাকি অনেক আনন্দ আর তৃপ্তি ভরিয়ে দেয় । আজ সেটা নিজে নিজে বুঝতে পারছি ।
বললাম , " সজীব তুমি আমাকে কোলে করে বিছানায় নিয়ে যাবে ? আমি না কোন শক্তি খুঁজে পাচ্ছি না । " সে বললো, " চলো তাহলে, হারিয়ে যাই ঐ নীল আকাশের উপরে "
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সজীব কে দেখতে পাচ্ছি না । তবে একটা কথা বুঝতে পারছি আমি যে, সজীব আর আমার মাঝে একটা দেয়াল তৈরির সম্ভবনা আছে । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটাতে বাধা দিতে হবে নাহলে আমার যে অভিমান আর রাগ সেটাই বড় ভয়ংকর ।
