প্রেম আড়ালে
মিলন পুরকাইত
যে সমস্ত জিনিস বারবার নানা ছলেবলে মানুষের সামনে আসে, একটা সময় পর সেই সুন্দর বিষয়টাই বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। এমনই একটি জিনিসের নাম " প্রেম" । পৃথিবীতে যত রকমের প্রেম আছে তার এতো রকমের উদযাপন চারিদিকে, তখন আমার মতো কয়েকজনের কাছে সেটা বড্ড বাসি হয়ে গেছে। তাই প্রেম বিষয়টা নিয়ে পড়ার বা লেখার আগ্রহ চলে যাচ্ছে একথা শিকার না করলে অন্তর্যামী এই পাপী কে আরো কিছু পাপ উপহার দেবেন। কিন্তু এরকম একটা শাশ্বত প্রেমের সম্পর্ক যখন চোখের সামনে আসে তখন এতো রমরমার বাজারেও প্রেমকে নিয়েই লিখতে হয়।
রাজ আর নীতির সম্পর্কটা বেশ অনেক বছরের। রাজের একটা সময় নিজস্ব কিছু চিন্তা, ভাবনা, দর্শন থাকলেও ; নীতির সঙ্গে সম্পর্কে আসার পরে সেই সবকিছুই শূন্য হয়ে গেছে। এখন নীতির ভাবনাটাই রাজের ভাবনায় পরিণত হয়েছে। আর যাই হোক প্রেমিকা বলে কথা প্রায় অর্ধেক বউই বলা চলে। দুজনেরই ফোনে প্রত্যহ যোগাযোগ কিন্তু নীতির সংবিধান অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন রাজ কে দেখা করতে আসতেই হবে। আজকেও সেরকমই একটা দিন।
— এই চলনা ওই দিকটা গিয়ে বসি, এখানে অনেকে বসে আছে।
— গঙ্গার ঘাটের যেখানেই বসিস না কেন একই হাওয়া আর সৌন্দর্য পাবি নীতি, নো চাপ।
— না তাও চল না ওই দিকটায় !
— আচ্ছা বাবা চল চল।
গ্রীষ্মের বিকেলে ঠান্ডা হাওয়ার চাদরের উপর রাজ আর নীতি বসে গঙ্গার ঘাটের একটা কোনায়। জোয়ারের সময় সারা গঙ্গা তখন উথালপাতাল করছে।
— তারপর কি ঠিক করলেন ম্যাডাম? কলেজ তো শেষের পথে, বি. কম এর পর কি এবার এম.কম নাকি ?
— না না ওই তো দেখি সরকারি চাকরির পরীক্ষা গুলো দেবো।
— হুম গুড আইডিয়া।
— কিন্তু জানিস তো এসব করতে একটুও ইচ্ছে করছে না! অন্য একটা জিনিস সারাক্ষন মনের মধ্যে ঘুরছে।
— তাই ? কি শুনি ?
— এমন একটা কিছু করবো যাতে সবাই আমার কথা শোনে! আমার কথাই হবে শেষ কথা! আমি ভালো খারাপ যাই করি সেটা সে মুখ বুজে মেনে নেবে।
— কি !! দাড়া এক মিনিট! এরকম তো আমিই আছি যে তোর কথায় উঠবে আর বসবে আর তাতেও না হলে কটা কুকুর বিড়াল পোষ ওরা শুনবেই !
— আমি মজা করছি না রাজ ! আর না বিষয়টা অত সহজ নয় ! কি ভাবিস কি তুই?! আরে একটা কুকুরকে তাড়া করলে দশটা কুকুর তেড়ে আসে ! পৃথিবীতে সমস্ত প্রাণীরই একটা শক্তিশালী ইউনিটি আছে, শুধুমাত্র কাদের নেই জানিস? মানুষের !
— মানে ?
— মানে আর কিছুই নয়! প্রত্যেকদিন খবরের কাগজে, টিভিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় গাদাগাদা খুন, ধর্ষণ! লোক ঠকানোর খবর! কজন মানুষ এসব নিয়ে ভাবে? যে যার নিজেরটুকু নিয়েই ব্যাস্ত। তাই নো প্রতিবাদ ! আর ঠিক সেই জন্যেই মানুষের উপর মানুষের ছড়ি ঘোরানো খুব সহজ ! তুই একজন কে মেরে ফেললেও ওরা সাময়িক একদিন একটু চিৎকার করবে, তারপর যে কে সেইইইই !
— বাহ ! কথাটা খারাপ বলিসনি তো ! তা কিছু প্ল্যান করেছিস নাকি এসব নিয়ে ?
— না আসলে আমার ইচ্ছেটা ফুলফিল হওয়ার জন্য তোকে সবার আগে দরকার রাজ। পাশে থাকবি তো ?
— আমাকে ! কেন ? আমি কি করবো ?
— ওমা, মাথা হবে আমার আর মুখ হবি তুই। আমি তোকে সব বলবো তুই শুধু সেগুলো আমার হয় পালন করবি, ব্যাস !
— কেন তুই করতে পারবি না ?
— না না ওরা মানে ওই মানুষগুলো যদি একবার আক্রমণ শুরু করে তখন আগে মুখের উপর সেটা এসে পরে, আমি একইই থাকি। মুখের ক্ষতি হলে মানুষ মরে না কিন্তু মাথায় কিছু হলে ..
— তার মানে আমি তোর কাছে কেউ না ?
— আরে না রে তোর কিছু হলেও সেটা আবার ঠিক সারিয়ে নেবো, কিন্তু আমার কিছু হলে এতো সব বুদ্ধি তোকে কে দেবে ? তাই বললাম।
— আচ্ছা আমি আছি তোর সাথে !
— হুম আমরা এক হয়ে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করবো। আর কেউ যদি নতুন কিছু ভাবে তাঁকে দেবো মৃত্যু !
— হ্যাঁ ! আমি সবসময় তোর পাশে আছি নীতি ।
✍ মিলন পুরকাইত

