শেষের কবিতা - মিলন পুরকাইত

0

 শেষের কবিতা

মিলন পুরকাইত 

গল্পটা শুরু অন্য দেশ থেকে । সিডনির একটা বাড়ির ব্যালকনিতে বসে একটা মেয়ে। ঝাঁ চকককে শহর। সময়টা দুপুর। মেয়েটা মাটিতে বসে আঁকছে। আশেপাশে ঘুরঘুর করছে বছর পাঁচেকের একটা মেয়ে। বাড়িতে একজন মেড আছে। মেয়েটার সামনে মোবাইল রাখা। ওয়াল পেপারে নিজের ছবি , শাড়ি পরা সম্ভবত পুজোতে তোলা। পাশে একটি সুদর্শন ছেলে পাঞ্জাবীতে। দুজনে হাত জড়িয়ে আছে। আচমকা ফোন বাজল। ফোনে লেখা "সৌম্য"। ফোনে সময় দেখল দুপুর দুটো। মেয়েটা হাফ প্যান্ট আর একটা ফুল স্লিভ গেঞ্জিতে। শহরটা বড্ড সুন্দর। রোদ ঝলমলে আকাশ আর সাদা চামড়ার মানুষগুলো যে যার মত ব্যস্ত। মেয়েটা হঠাৎ আঁকা ছেড়ে মেয়েটাকে ডাকল,
-মাম্মা
ফোনটা ধরল,
-বলো...

এই গল্পটা আবার শুরু হচ্ছে নর্থ কলকাতার সরু গলি থেকে। একটা ছেলে ফরমালে। কাঁধে ঝোলানো ডাকব্যাগ। এক হাতে টিফিন। বোঝা যাচ্ছে অফিস যাচ্ছে। একটা হাতে টানা রিকশা গলিতে ঢুকল। যতটা সম্ভব সাইড দিলো ছেলেটা। তাও প্যান্টে একটু নোংরা লাগল। দেখার আর সময় নেই। অফিসের জন্য বাস ধরতে হবে। দৌড় মারল মোড়ের দিকে। ছেলেটার গলায় আই কার্ড। নামটা অমিত সেন, সুপারভাইজার। গালে কাঁচাপাকা দাড়ি। কানের পাশের চুল গুলো পেকে গেছে। চশমার আড়ালে চোখ গুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে, বাড়িতে আজো ঝগড়া হয়েছে। ফোনটা বাজছে। ধরছে না। হাতঘড়িতে সময় দেখল সাড়ে নটা। রোদটা বড্ড চড়া। এর মধ্যেই একটা ঘামের টুকরো কানের পাশ দিয়ে নামছে গেঞ্জির কাছে। মাথাটা কেমন ঘুরল অমিতের। বিপিটা নামলো নাকি। এত মাথা গরম করে দেয় না মা। বাবাটা আজ অনেকদিন ওই আকাশে রোদ আর বৃষ্টি হয়ে ওকে ছুঁয়ে যায়। বাড়িতে মা আর একটা কাজের লোক। মার শুধু ওই এক কথা...
প্রথম গল্পে ফিরি। ফোনের ওপ্রান্তে সৌম্য,
-কী করছ?
মেয়েটা,
-আঁকছি গো। এই তো মিসেস স্যামুয়েল ফোন করে বললেন তিন পরের এক্সজিবিশনের কথা। 
সৌম্য বড্ড সাপোর্ট করে বউকে। ভালোবাসে খুব। বউটা বড্ড মৃদুভাষী। দেখতে অসাধারণ সুন্দর। মেক আপের দরকার হয় না। পান পাতার ওপ্রান্তে যেদিন চার চোখ এক হয়েছিল, সেদিন সৌম্য ভালোবেসে ফেলেছিল লাবণ্যকে। হ্যাঁ, মেয়েটা লাবণ্য ঘোষ, যদিও এখন লাবণ্য মুখার্জী ঘোষ।
হেসে বলল,
-মেয়ে কোথায়?
এতক্ষনে ওই পাঁচ বছরের মেয়েটা চিল্লিয়ে উঠল,
-ডাডু!
শুরু হলো বাপ বেটিতে কথা। কত কথা ওদের। ফোনটা দিয়ে মেয়েকে ব্যালকনি থেকে উঁকি মেরে দেখল নীচে কেউ একজন সেন্সলেস হলো যেন!!
প্রচন্ড ভীড় জমেছে হেদুয়ার মোড়ে। একটা মধ্য বয়স্ক লোক অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছিল রাস্তায়। সবাই ঘিরে দেখছে। কেউ হেল্প করতে এগিয়ে যাচ্ছে না। জ্ঞান যখন এলো, হাত দিয়ে লালা মুছে নিলো অমিত। কানাঘুষো শুনল,
-সকাল সকাল কে খায় বাবা!!
নাহ, শরীরটা বড্ড খারাপ লাগছে। আজ কাজে যাবে? সামনে পার্ক। উঠল বসার জন্য।
মানিব্যাগটা বার করল অমিত। অনেক খুঁজে বার করল টিকিটটা। বাসের টিকিট। রং উঠে গেছে। অনেকদিনের মনে হয়। কেঁদে ফেলল অমিত। মার সাথে ফালতু ঝগড়া করল আজ। রোজ এক কথা, কবে বিয়ে করবে?? বোঝাতেই পারছে না " এ জীবনে আর কারো সাথে থাকতে পারবে না ও"..যেমন বোঝাতে পারে নি ওকে। বলতে পারে নি ওকে " যেও না, আমি এমনটা থাকবো না গো"!
তখন এম এ শেষ করেছে অমিত। পি এইচ ডি করবে করবে ঠিক করছে, এমন সময় বাবার এটাকটা সমস্ত হিসাব পাল্টে দিলো। রোজ নিয়ম করে বাবাকে দেখা। মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা বাবা আর মাথার পাশের মেশিন সচল দেখা অমিতের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছিল। মা রোজ স্নানের পরে সিঁদুর পরে বলত,
-বাবু আমি সিঁদুর পরতে পারবো তো বল?
কান্না পেলেও কাঁদত না অমিত। কাঁদবে না, কাঁদলে যে প্রিয়জনের আয়ু নাকি শেষ হয়ে যায়??
সেদিন হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে মাথাটা কেমন করে উঠল অমিতের। চোখের সামনে অন্ধকার, আর তারপর মনে নেই কিছু। জ্ঞান যখন ফিরল, সামনে ডাক্তার, নার্স, স্যালাইন ঝুলছে আর দূরে দাঁড়িয়ে একটা মেয়ে। ধপধপে ফর্সা গায়ের রং। আকাশী সালোয়ার আর সাদা দোপাট্টা। দাঁড়িয়ে দেখছিল ওকে। কত কথা বলছে ডাক্তার। কিছু কানে যাচ্ছে না। শুধু মেয়েটাকে দেখছে অমিত..
লাবণ্য ছুটে গেল বাড়ির নীচে। দু চারজন লোক জমে গেছে। এক বার জিজ্ঞেস করল,
-ইজ হি ওকে?
একটা লোক বলল,
-ইয়াপ লেডি!
ফিরে এল বাড়িতে। মেয়ে খেলছে। চুপিসারে ড্রয়ার খুলল। অনেক সন্তর্পণে বার করল পুরোনো একটা পার্স। তার থেকে বার করল দুটো টিকিট। সিনেমার টিকিট, " কহ না প্যায়ার হ্যায়"। মুখ চেপে কাঁদছে লাবণ্য। অনেক, অনেকদিন পরে...
বাবা আর ফিরল না অমিতের। একদম হাসপাতাল থেকে চুল্লী। ঘাট কাজের পর মায়ের হাতের শাখা পলা বার করে ভেঙে জলে ফেলে দিলো অমিত। বাবার উপহার, বাবা নিয়ে গেল। তারপর থেকে মা না কেমন একটা হয়ে গেল। বাবার কিছু সেভিংস নিয়ে চলল কিছুদিন। কিন্তু একটা তো কাজ খুঁজতে হবে যে। তাই রোজ তৈরি হয়ে বেরোত অমিত। একটা জুতোর কোম্পানিতে চাকরী পেল, তবে ফ্রেশার তো তাই ডেটা এন্টির পোস্টে। রোজ ১০-৭টা কম্পিউটারের খট খট!! চলছিল জীবন, পাগল হচ্ছিল মা, গুমরে মরছিল অমিত। জীবন তো? তাই মোড় ঘুরবেই। মোড় ঘুরতেই দেখা হলো সেই ধপধপে মেয়েটার সাথে।
 বারাসাত, কলোনী মোড়,রাত আটটা। কাজ ছিল একটা অমিতের। ঠিক মোড়ে দাঁড়িয়ে অনেকটা চেনা মুখ। আজ না শাড়িতে, কালো আর লাল ছোপ ছোপ ফুল আঁকা শাড়ি। চুলটা ছাড়া, আর কপালে একটা ছোট্ট টিপ। একটু উসখুস, একটু ঘড়ি দেখা, এর মধ্যেই অমিত,
-হাই!
ও মা! পুরো স্লো মোশোনে ঘুরল যেন। কেমন একটা অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে,
-হ্যাঁ, বলুন
-ই আ আ হ...তোতলাতে শুরু করতেই মেয়েটা,
-সরি প্লিস!
"এই রে,কাঁচড়া করে ফেললাম"। সামলিয়ে অমিত আবার,
-চিনতে পারলেন?
বলেই মনে পড়ল,
-বাবা নেই এক বছর। ও কি হিরো,যে মনে রাখবে??
মেয়েটা অদ্ভুত ভাবে,
-নাহ,
তাও অমিত,
-আরে হাসপাতাল,অজ্ঞান, হেদুয়া!!
-আরে মশাই অদ্ভুত ব্যাপার!! কে আপনি??
মরিয়া অমিত,
-আসলে এক বছর হয়ে গেছে। অনেক খুঁজেছি আপনাকে জানেন? আপনি আমায় এডমিট করিয়েছিলেন ডাক্তার বলেছে। আপনার সাথে আর কথা হলো কই! 
বিরক্তি নিয়ে মেয়েটা,
-দেখা হয়েছে? আপনার না বলা থ্যাংক ইউ নিয়ে নিলাম। এবার আমার ট্যাক্সি এসেছে, যাই??
হেসে হ্যাঁ করল অমিত। ট্যাক্সি চলা শুরু করতেই, মনে পড়ল নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি। দৌড়...দৌড়...আর চিল্লিয়ে,
-শুনছেন?নামটা?
মাথাটা বার করল মেয়েটা। অমিত দৌড়াচ্ছে আর " নাম? নাম?" বলছে। ট্যাক্সি স্পিড বাড়ালো। মেয়েটা মাথা বাড় করে বলল,
-লাবণ্য!
পাথরে হোঁচট খেয়ে সটান রাস্তায় ধুলো মাখামাখি অমিত। লেগেছে খুব, তাও খুশি । মনে পড়ল এই রে পদবীটা???
বাড়ি এলো। সারা রাস্তা চিন্তা, কী করে খুঁজবে? টেলিফোন ডিরেক্টরি? নাহ , তাহলে তো খুঁজে বার করতে গেলে বয়স হয়ে যাবে। কী করি? মনে পড়ল ইমারজেন্সিতে ভর্তি হয়েছিল না? কেউ তো সই করেছে। পরের দিন হাসপাতালে । ইমারজেন্সি বিভাগে গিয়ে বলতেই,
-আপনি কি পাগলা পি পিপি ...বাকিটা শুনে নিয়েছে অমিত। এক বছর আগের কেস। খাতা থাকে? সে সব স্টোরে। ওয়ার্ড বয়কে একটা পাঁচশো ধরাল অমিত। বাইরে দাঁড়াতে বলল ওয়ার্ড বয়। ঘন্টা খানেক পরে বলল এসে,
-লাবণ্য ঘোষ!
আহ!! সে চৈত্রে বৈশাখের নরম ফুরফুরে হাওয়া অনুভব করল অমিত। কিন্তু....ঠিকানা??
কলিং বেল বাজলো লাবন্যর। মনে হয় সৌম্য এল। শুয়ে পড়েছিল একটু। তাড়াতাড়ি সব লুকিয়ে দরজা খুলতে দৌড়ালো। সৌম্য ঢুকেই একটু জড়ায় রোজ। তারপর মাথায় ঠোঁট স্পর্শ করে ফ্রেশ হতে যায়। আজো সেই একই ভাবে আদর করে ভেতরে ঢুকল। মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। মেড মনে হয় শুইয়ে দিয়েছে। থাক সৌম্য ফ্রেশ হোক। ও এলে একসাথে খাব। ব্যালকনিতে দাঁড়ালো লাবণ্য। এখানে রাতগুলো বড্ড প্রেম ছড়ায়। কলকাতার মত না। নাহ, চাই না আর কলকাতা...!
আবার দেখা হলো গড়িয়াহাটের মলে লাবন্যর সাথে অমিতের। এস্কেলেটরে একটু আগে ছিল। চিল্লিয়ে,
-লাবণ্য!
লাবণ্য আজ জিন্স, টপে। সময়টা শীতকাল তাই জ্যাকেট নিয়েছে। ওসব আর কবে দেখে অমিত? মুখটা এত সুন্দর ওর। লাবণ্য দাঁড়িয়ে পড়েছে। সামনে যেতেই,
-আপনি কী চিপ লাগিয়েছেন আমার পেছনে? যেখানে যাচ্ছি চলে আসছেন। নিলাম তো সেবার থ্যাংক ইউ!
অমিত শুধু শুনছে। ঠোঁটের ওঠানামা দেখছে। বন্ধ হতেই,
-আমায় বিয়ে করবে লাবণ্য??
একসাথে রাগ, লজ্জা, গালাগাল সব কিছু নিয়ে ও শুরু করতে যাবে, অমিত আবার,
-আমার নাম অমিত সেন। ছোটখাটো কাজ করি। মা আছে। আত্মীয় আছে তাদের মত। বাবা কিছু রেখে যায় নি, মাকে ছাড়া। তুমি থাকলে আমার দুটো মা হবে জানো? তোমায় বেশ মা মা লাগে আমার। মনে হয় দিনের শেষে ঘাম ভেজা শরীর তোমার গায়ে ঘেঁষে শুয়ে থাকি। অনেক খুঁজেছি তোমায় জানো? নম্বর, ঠিকানা কিছু জানি না। ওই হাসপাতালে গিয়ে তোমার পুরো নাম জেনেছি। আমি প্রেম করতে চাই তোমার সাথে। সেটাও বিয়ের পরে। একসাথে পাহাড়ে উঠতে চাই, তাও বিয়ের পরে, একসাথে ময়দানে বসতে চাই, একসাথে ঘোড়ার গাড়িতে রাতের কলকাতা দেখতে চাই। আমি হ্যাঁ , না কিছু শুনতে চাই না।শুধু এগুলো বলতাম তোমায়। তাই ডাকলাম। ভালো থেকো। 
এসব বলেই দৌড়ে পালাতে যাবে। লাবণ্য ডাকল,
-শোনো
অমিত পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে। লাবণ্য বলল,
-রবিবার নিউ হ্যাম্পায়ার আসতে পারবে? অনেকদিন সিনেমা দেখিনি। সিনেমা দেখতাম, আর তোমায় শুনতাম।
হ্যাঁ বলবে কি, হাতে ল্যান্ড নম্বর লিখে দিলো লাবণ্য। মিশে গেল ভিড়ে। দাঁড়িয়ে অমিত। তাহলে নতুন শেষের কবিতা লেখা হচ্ছে?
রবিবার ঠিক সময়ে দাঁড়িয়ে অমিত। মাঝে ল্যান্ড লাইনে কথা হয়েছে। অমিতের ফোন নেই। ওই রাস্তার ফোন ভরসা। ঠিক সময়ে এল লাবণ্য। আজ একটা নীল গোলাপী কুর্তি আর পাটিয়ালা! ইস, কাজলের টিকা লাগিয়ে দিতে হয় ঘাড়ে।
টিকিট নিল ওরা। সিনেমা " কহ না প্যায়ার হ্যায়"। সিনেমা দেখতে দেখতে লাবণ্য হাতের ওপর হাত রাখল। অমিত একটু ঘামছে। লাবণ্য বলতে শুরু করল,
-আমায় বাবার কম্পিউটার পার্টসের দোকান। তাছাড়াও পৈতৃক ব্যবসা। বিয়ের জন্য ছেলে খুঁজছে। ভালো করে প্রেমটাই করতে পারলাম না জানো? খুব ইচ্ছে করে কারো বুকে লুকিয়ে পড়ি, যাতে গোটা পৃথিবী দেখতে না পারে। খুব ইচ্ছে করে চায়ের কাপ নিয়ে কারো পেছনে রোজ দৌড়াই। খুব ইচ্ছে করে শুধু আমি রাগব, সে শুধু মানাবে। কই আর হলো? এক গুচ্ছ প্রপোজ পেয়েছি জানো? কারো চোখে আমাকে দেখিনি। অমিত, গল্পটা শেষ হবে তো আমাদের?
উত্তর নেই অমিতের কাছে। মা টা কেমন হয়ে গেছে। ঠিক করে খায় না। খালি বলে,
-তোর বাবা আমায় কিছু বলল না কেন রে?
ভালো একটা চাকরী পেতে হবে। মার সাথে লাবন্যর আলাপ করাতে হবে। অনেক কাজ যে।
আস্তে আস্তে ওদের প্রেমটার সাক্ষী রইল গোটা কলকাতা। রোজ একটু হলেও দেখবে লাবণ্যকে। নাহলে কেমন যেন করে অমিতের।
মহালয়া এল। এবার তর্পণ করতে যাবে অমিত। একটা ফোন নিয়েছে। সকালে সুপ্রভাত বলে দিন শুরু করে অমিত। সেদিন ও করেছিল। মাকে জাগাতে গিয়ে দেখল গা ঠান্ডা। মুখে হাসি। বাবাও হাসছে। মনে হয় ওর হাতে এবার জল নেবে না আর। গ্লাস করে জল দেওয়ার লোক পেয়ে গেল যে!
কেমন যেন পাল্টে গেল প্রেমের ভাষা। অনাথ অমিত কী ভরসায় দাঁড়াবে এবার??বছর ঘুরল, ফেসবুকে লাবন্যর বিয়ের ছবি। নাহ, অভিশাপ না।ওই দেখলে কেমন একটা কষ্ট হয়...
বিকেলে হতে চলল এই পার্কেই। বেরোনোর সময় মার ফটোতে ফুল দিয়ে বেরোয়। বারবার পড়ে যাচ্ছিল আজ। যেন বারবার বলছে,
-যাস না বাবা,শরীরটা ভালো না। দেখার কেউ নেই। বিয়েটা তো করলি না।
তাই চিৎকার করে বেরিয়েছিল অমিত।
 সূর্য চলে যাচ্ছে প্রায়। লাবণ্যর থেকে শিখেছিল চোখ বন্ধ করে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে রেখে প্রার্থনা করে চোখ খুলে ফুঁ দিলে সেটা পূরণ হবেই।
তাই মুষ্টিবদ্ধ করে মনে মনে বলল,
-সব গল্পের শেষ হয়না লাবণ্য, আমাদের টাও হলো না। দেখা হবে যেদিন, ঘাম ভেজা শরীরটা নিয়ে কাছে যেতে দিও কিন্তু। তখন কোনো বাধাঁ থাকবে না আমাদের।
চোখ খুলে ফুঁ দিলো লাবণ্য। মনে মনে বলল,
-ডালভাতে জীবনটা কেটে যেত অমিত হয়ত। শুধু ভালোবাসা হেরে যেত, ভালো থাকার কাছে।
শেষের কবিতা - মিলন পুরকাইত


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)